কালের সাক্ষী ও দর্শনীয় স্থান বাকেরগঞ্জের পাদ্রী শিবপুর গীর্জা

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২০

বায়েজিদ বাপ্পি, বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি ::

বাকেরগঞ্জ সদর থেকে মাত্র পাঁচ মাইল দূরত্বে শ্রীমান্ত খালের তীরে পাদ্রী শিবপুর অবস্থিত। পলাশী যুদ্ধের পরে একদল পর্তুগীজ এখানে বসতি স্থাপন করে। প্রথমে ধর্ম যাজক র‌্যাফেল জ্যা এনজস পাদ্রী শিবপুরে আসেন। প্রথম গীর্জাটি নির্মাণ করেছিলেন ফাদার পোড্রো গনজালবেস পাদ্রী। পরবর্তীতে পুরনো গীর্জাটি ভেঙে ডমিনগো ডি সালভারের পুত্র ম্যানুয়াল ১৮২৩ খ্রিঃ পুনরায় গীর্জা নির্মাণ করেন।

পর্তুগীজ ডি সালভার ছিলেন জমিদার এবং বিখ্যাত ধর্ম যাজক। তিনি চালের ব্যবসা করে জমিদারী ক্রয় করেন। পাদ্রী শিবপুরে ও বরিশালের সাগরদীতে তার নির্মিত বাসভবন রয়েছে। ১৮২১ খ্রিঃ তিনি মৃত্যুবরণ করলে বরিশালের খ্রিস্টান কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। বর্তমানে ম্যানুয়ালের নির্মিত ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দের গীর্জাটি নেই। সেটি ভেঙে ২০০৫ সালের ১৪ এপ্রিল বিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও একটি আধুনিক গীর্জা নির্মাণ করেন। এটির নাম ‘‘পথ প্রদর্শিকা কুমারী মায়ের গীর্জা’’।

আর্কিটেক্ট ডিজাইনার পেরিশ পিষ্ট ফাদার এজিও মাসকারেত্তি পিমে ইটালিয়ান প্রধান এর দায়িত্বে আছেন। একসময় পর্তুগীজদের পাদ্রী শিবপুরে বাণিলজ্য এবং ধর্ম প্রচারই মুখ্য বিষয় ছিল কিন্তু বর্তমানে শিক্ষাই তাদের মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ধর্মীয় বিষয়টি এখন তাদের নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাদের প্রতিষ্ঠিত সেন্ট আলফ্রেডস হাই স্কুল অত্র অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এটি ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলের নতুন চারতলা ভবনটির আর্কিটেক্ট ডিজাইনার পেরিশ পিষ্ট ফাদার এজিও মাসকারেত্তি পিমে। এসবকিছু মিলিয়ে পাদ্রী শিবপুর একটি দর্শনীয় স্থান।

Sharing is caring!