কালও ফাঁসি হচ্ছে না তাদের

প্রকাশিত: ২:৪৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২০

ভারতের মেডিকেলছাত্রী ‘নির্ভয়া’কে ধর্ষণে অভিযুক্ত চার আসামির ফাঁসি কার্যকরের দিন ফের পিছিয়ে গেল। আজ সোমবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানান দণ্ডিত পবন গুপ্ত। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফাঁসির আদেশ স্থগিত করেছেন দিল্লির এক আদালত।

এই ধর্ষণের ঘটনায় বিনয় শর্মা, মুকেশ সিং, অক্ষয় কুমার সিং ও পবন গুপ্তকে আগামীকাল মঙ্গলবার ফাঁসিতে ঝোলানোর কথা ছিল। তবে আদালত সেটি স্থগিত করেছে। এর আগেও তাদের ফাঁসি হওয়ার আদেশ পিছিয়ে গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের ওই ধর্ষণের ঘটনার সময় নাবালক ছিলেন দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে শাস্তি কমানোর জন্য আবেদন করেন পবন গুপ্ত। তার আবেদনে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল করে তা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিণত করতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছিলেন। আজ তার সেই আবেদন খারিজ করে দেয় ভারতের শীর্ষ আদালত।

এরপর তড়িঘড়ি করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার চেয়ে আবেদন জানান পবন।  রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবার আদালতের দ্বারস্ত হন পবনের আইনজীবী। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ফাঁসিতে স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। তাতেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ফাঁসি পিছিয়ে দেন অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারপতি ধর্মেন্দ্র রানা।

ফাঁসির স্থগিতাদেশ দেওয়ার সময় বিচারপতি ধর্মেন্দ্র রানা বলেন, ‘আসামির প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে যখন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ অবস্থায় ফাঁসি কার্যকর করা যায় না। তাই ৩ মার্চ সকাল ৬টায় যে ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত রাখা হল।’

এর আগে কয়েক দফা আলোচিত এই ধর্ষণের আসামিদের ফাঁসির তারিখ পেছানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে বাড়ি ফেরার সময় চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন প্যারামেডিকেলের ছাত্রী নির্ভয়া। মুকেশ, বিনয়, পবন, অক্ষয় ও বাসচালক রামসিংহসহ মোট ছয় যুবক বাসের ভেতর নির্ভয়ার বন্ধুকে মারধর করে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে। গণধর্ষণের পর নির্ভয়া ও তার বন্ধুকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেয় তারা।