কারা আসছেন ববি কর্মকর্তা পরিষদের নেতৃত্বে?

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২১

শফিক মুন্সি ॥ আগামী ২৮ জানুয়ারি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আলোচিত সংগঠন কর্মকর্তা পরিষদের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে গত দু’মাস যাবৎ সৃষ্টি হয়েছে একের পর এক নাটকীয়তা, আলোচনা – সমালোচনা। প্রথমে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ কমিশনের দুজন সদস্য। পরবর্তীতে নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার দিয়ে পুনঃগঠিত করা হয় কমিশন।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে শুরু হয় গঠনতান্ত্রিক জটিলতা। পরবর্তীতে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পক্ষের তাগাদায় নির্ধারণ করা হয় নির্বাচনের তারিখ। নির্বাচনে প্রধান দুটি পদ সভাপতি – সাধারণ সম্পাদক সহ মোট ১৩ টি পদে নির্বাচন হবে। তবে এখন থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের নিয়ে আগ্রহ। কানাঘুষা চলছে কে জিতবেন আর কে হারবেন এই বিশ্লেষণ নিয়ে। তবে যারাই পরিষদের নেতৃত্বে আসুন না কেন তারা যেন শিক্ষার্থী বান্ধব হন এমন দাবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের। কারণ বিগত দিনে সেখানকার নানা দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করার ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন কর্মকর্তারা।

বিগত দিনে সাধারণত দুটি প্যানেল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। তবে এবার প্যানেল গঠনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাই ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনী যুদ্ধে অংশ নেবেন সবাই। প্যানেল না থাকায় মনোনয়ন বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা। আর কারা আসবেন আলোচিত এই সংগঠনটির নেতৃত্বে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে জল্পনা – কল্পনা। কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, পরিষদের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি পদে প্রার্থিতার জন্য মনোনয়ন পত্র কিনেছেন পরিষদের সাবেক সভাপতি বাহাউদ্দীন গোলাপ, মুর্শিদ আবিদিন এবং হুমায়ুন কবির। এছাড়া রফিকুল ইসলাম সেরনিয়াবাত ও ফাতেমা মমতাজ মলি সহ আরো একজন কিনেছেন সভাপতি পদের মনোনয়ন পত্র।

এদিকে, সভাপতি পদের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদের জন্যও মনোনয়ন পত্র কিনেছেন রফিকুল ইসলাম সেরনিয়াবাত। পরিষদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এই পদটিতে লড়াই করতে মনোনয়ন কিনেছেন ডাঃ তানজিন হোসেন, তৌসিক আহমেদ রাহাত, আবু হাসান সহ আরো একজন। কিন্তু আগামী রোববারের মধ্যে এই দুটি পদে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের সংখ্যা কমে যাবে বলে ধারণা অনেকের।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মনোনয়ন বিক্রি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। পরিষদের ১৩ টি পদে লড়াই করার জন্য ৪৪ জন কর্মকর্তা মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৬টি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৫টি মনোনয়ন বিক্রি হয়েছে। আগামী রোববার মনোনয়ন জমা দেবার এবং মঙ্গলবার প্রত্যাহার করার দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে কোন প্রার্থী যেন ভোটারের বাসায় না যান সেজন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে কমিশন।

এছাড়া আগামী ২৭ জানুয়ারি প্রার্থী এবং ভোটারদের নিয়ে সংলাপের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। পরদিন ভোটকে উৎসবমুখর করতে বিভিন্ন বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা করার কথা মাথায় রেখে এ আয়োজন। তবে নির্বাচন যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায় এজন্য ভোট গ্রহণের সময় থেকে ফলাফল প্রকাশ করা পর্যন্ত ব্যাপক আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে ক্যাম্পাসে।

এসব ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। কমিশন আশা করে সকল প্রার্থী ও ভোটারগণ সকল বিধিনিষেধ যথাযথভাবে পালন করবেন। এছাড়া নির্বাচনের দিন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান, হলে নির্বিঘ্নে থাকা সহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন একাডেমিক প্রয়োজনে কর্মকর্তাদের দারস্থ হতে হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা আলীম সালেহী। তাই শিক্ষার্থী বান্ধব কর্মকর্তারা পরিষদের নেতৃত্বে আসুন এমন দাবি এই শিক্ষার্থীর। আর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী রোববার মনোনয়ন জমাদানের পর বিভিন্ন পদে প্রার্থী সংখ্যা কমে যাবে। তবে যারাই নির্বাচিত হোন তারা যেন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কর্মকর্তাদের উন্নয়নে কাজ করেন এমন চাওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব কর্মকর্তার।