কাঠালিয়ায় ঘুষ নেয়ার ঘটনায় এসিল্যান্ড ও নাজিরকে শাস্তিযোগ্য বদলী

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২১

কাঠালিয়া প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এসিল্যান্ড সুমিত সাহা ও তার অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার মোঃ মাইনুল হোসেনকে শাস্তিযোগ্য বদলী করা হয়েছে। তাদেরকে ৪ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসিল্যান্ড সুমিত সাহাকে বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলায় এবং নাজির মাইনুল হোসেনকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাধারণ শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘুষ নেয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে পরের দিন এসিল্যান্ডের নির্দেশে নাজির মোঃ মাইনুল হোসেন ভাটা কর্তৃপক্ষকে ঘুষের টাকা ফেরৎ দেয়ার চেষ্টা চালান। ত্বহা ব্রিকস ফিল্ডের মালিক পক্ষ টাকা গ্রহণ না করায় চরম বিপাকে পড়েন সুমিত সাহা। পরের দিন জেলা প্রশাসক মোঃ জোহর আলী এসিল্যান্ড ও নাজিরকে শোকজ করেন। ৩ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন।

 

সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে এসিল্যান্ড ও নাজিরের বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য বেরিয়ে আসে। সুমিত সাহার ভাই রবিন সাহার ওয়ান ব্যাংক লিঃ, হিসাব নম্বর-০১৫২০৫০০২৫৩৭৪ এ গত ২৪ জানুয়ারী ২০২১ তারিখ এক লক্ষ টাকা জমা করা হয়েছে, একই দিনে অন্য এক নিকট আত্মীয় সিবানী সাহা, যমুনা ব্যাংক লিঃ, হিসাব নম্বর-০০৮৭০৩১০০০৮৬১৯ এ দুই লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছে। এসিল্যান্ডের নিজ একাউন্ট ডাচ বাংলা ব্যাংক লিঃ হিসাব নং ১১৮১০৫৫৫৩২৮০০ এ গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ ত্রিশ হাজার, ৩১ ডিসেম্বর চল্লিশ হাজার ও ১০ ডিসেম্বর পঞ্চাশ হাজার টাকা জমা করেন।

 

এছাড়া গত ২১ ডিসেম্বর ২০২০ ব্র্যাক ব্যাংকের ১৫০৩২০৩৬২৯৪২৪০০ হিসাব নম্বরে এক লক্ষ পনের হাজার টাকা জমা হয়েছে। যার রিসিভ নম্বর ৪০৪৩২৯২৬৪৩৫৫। সুমিত সাহা নাজ প্রোপারটিজ লিঃ, ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাব নম্বর-১৫০৩২০৩৬২৯৪২৪০০১ এ প্রতি মাসে টাকা জমা করে থাকেন।

 

উল্লেখ্য যে, গত ২৫ জানুয়ারী সোমবার দুপুরে কাঠালিয়ার মেসার্স ত্বহা ব্রিকস ফিল্ডে এসিল্যান্ড সুমিত সাহা, তার অফিসের নাজির মাঈনুলসহ অন্যান্য কর্মচারী, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্য নিয়ে অভিযান চালান। এ সময় নানা অভিযোগ তুলে ইট ভাটার পার্টনার (মালিক) মোঃ শাহিন আকনের কাছে দশ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে ভাটার মূল মালিক মোঃ এনামুল হকের শ্বশুর হাবিবুর রহমান ও কর্মচারী মফিজুলকে আটক করে কাঠালিয়া এসিল্যান্ড কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

 

পরে পার্টনার (মালিক) শাহিন আকন প্রথমে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা কাঠালিয়াস্থ এসিল্যান্ড সুমিত সাহার অফিসে গিয়ে তাকে দেন। টাকা কম হওয়ায় তিনি আরও ক্ষিপ্ত হন। পরে শাহিন এসিল্যান্ডের কাছ থেকে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে আবার বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে এসে মোট চার লক্ষ টাকা সুমিত সাহাকে পৌঁছে দেন, এ সময় তার নাজির উপস্থিত ছিলেন। টাকা পাওয়ার পরে আটককৃত দুইজনকে ছেড়ে দেয়া হয়। টাকার রশিদ চাওয়া হলে সুমিত সাহার স্বাক্ষরিত মামলার (নম্বর ০৫/২০২১ইং) আদেশে (ক্রমিক নং ৪৮০৮২৩) এর দুই লক্ষ টাকার একটি রশিদ বাটার পার্টার (মালিক) শাহিনকে ধরিয়ে দেয়া হয়। অন্য দুই লক্ষ টাকা কথা জানতে চাইলে তাকে ধমকিয়ে অফিস থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।

 

২০২০ সালের ৮ অক্টোবর সুমিত সাহা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে কাঠালিয়া উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি ভূমি অফিস ঘুষের আখড়ায় পরিণত করেছেন। প্রতি মাসে উৎকোচের সাত আট লক্ষ টাকা নাজির কাম ক্যাশিয়ার মোঃ মাইনুল হোসেনের মাধ্যমে তার বিভিন্ন আত্মীয় ও নাজ প্রোপারটিজ লিমিডেট এর একাউন্টে পাঠান। এসিল্যান্ড সুমিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জমির নামজারী, সই মোহর পর্চা, জলাশয় সংস্কার (খাল ও পুকুর) প্রকল্প থেকে, খাস জমির গাছ বিক্রিসহ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও ফাইল থেকে ঘুষ গ্রহণ করে থাকেন।