কাঠালিয়ার এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় মেসার্স ত্বোহা ব্রিকস ফিল্ডে অনিয়মের অজুহাত তুলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এসিল্যান্ড সুমিত সাহা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে চার লাখ টাকা আদায় করে দুই লাখ টাকার জরিমানার রশিদ দিয়েছেন এবং দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । দুই লাখ টাকা এসিল্যান্ড ও তার নাজির মাঈনুলের মধ্যে ভাগাভাগির বিষয়টি ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন মহলে জানাজানি হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমিত সাহা তার অফিসের কর্মচারী মাঈনুলের মাধ্যমে ব্রিকফিল্ড মালিককে দুই লাখ টাকা ফেরত দিতে নানা চেষ্টা তদ্বির চালাচ্ছেন। গত সোমবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত বড় কাঠালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

ইট ভাটার মালিক (পার্টনার) মোঃ শাহিন আকন জানান, ২৫ জানুয়ারি সোমবার সকাল দশটার দিকে এসিল্যান্ড সুমিত সাহা, তার অফিসের নাজির মাঈনুল, কয়েকজন পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্য নিয়ে আমাদের ফিল্ডে উপস্থিত হন। ভূমি অফিসের নাজির মাঈনুল এসিল্যান্ডের সামনেই কাঠ পোড়ানোসহ নানা অভিযোগ তুলে আমার কাছে কাছে দশ লাখ টাকা দাবি করেন । এত টাকা দিকে অস্বীকার করলে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দিয়ে ভাটার চুলায় পানি দিয়ে নিভিয়ে ফেলা হয় এবং ফিল্ডের মূল মালিকের শ্বশুর হাবিবুর রহমান ও ফিল্ড স্টাফ মফিজুলকে আটক করে এসিল্যান্ডের গাড়িতে করে কাঠালিয়া সদরে এসিল্যান্ড অফিসে নেয়া হয়।

 

ফিল্ডের অংশীদার শাহীন আকন দুপুরে চার লাখ টাকা নিয়ে নাজির মাঈনুলকে বুঝিয়ে দিলে এসিল্যান্ড অফিসে আদালত বসিয়ে ০৫/২০২১ নম্বর মামলা দিয়ে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমিত সাহার স্বাক্ষরিত শাহিনকে একটি রশিদ প্রদান করে আটক হাবিব এবং মফিজুলকে ছেড়ে দেয়া হয়। শাহীন আকন ফিল্ডে ফিরে দেখেন এসিল্যান্ড অফিস থেকে তাকে যে রশিদ দিয়েছেন তাতে (ক্রমিক নং ৪৮০৮২৩) দুই লাখ টাকা লেখা রয়েছে। এ বিষয়ে শাহীন মাঈনুলের সাথে যোগাযোগ করলে মাঈনুল তাকে বলেন, সব টাকা রশিদে লিখলে স্যারে সহ আমরা যে এতগুলা লোক গেলাম আমরা খাব কি? এরপর শাহীন আকন এবং মূল মালিক এনামুল হোসেন বিষয়টি মোবাইল ফোনে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন মহলকে জানান ।

 

মঙ্গলবার বিকালে ভাটার মালিক মোঃ এনামুল হক জানান, অবৈধভাবে নেয়া দুইলাখ টাকা নানা চাপের কারণে ফেরৎ দেয়ার জন্যে সহকারী কমিশনার ভূমি সুমিত সাহা নাজির মাইনুলের মাধ্যমে নানা চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। সহকারী কমিশনার ভূমি সুমিত সাহা ৪ লক্ষ টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, অন্য কেউ টাকা নিয়েছে কিনা আমার জানা নেই, আমি ২ দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করেছি এবং সেই টাকার রশিদ দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার আমার কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন, আমি বলেছি তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুফল চন্দ্র গোলদার সাংবাদিকদের জানান, মেসার্স ত্বোহা ব্রিকস ফিল্ডে একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সেখানে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, এর বাহিরে অন্য কিছু আমার জানা নেই। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর একাধিকবার ইউএনওর গাড়ী শাহীন আকনের বাড়িতে আসা যাওয়া করেছে বিষয়টা মিটমাট করার জন্য।