কাওসার হত্যা মামলার আসামী নজরুলকে জেলহাজতে প্রেরণ

প্রকাশিত: ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২০

রাহাদ সুমন, বানারীপাড়া প্রতিনিধি॥
বরিশালের বানারীপাড়ার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের নলশ্রী গ্রামে কাওসার নামের এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামী পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলামকে (৩৫)কে ২২ এপ্রিল বুধবার দুপুরে বরিশালে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

২১ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে বরিশাল র‌্যাব-৮’র এএসপি ইফতেখারের নেতৃত্বে তাকে গ্রেফতার করার পরে থানায় সোপর্দ করা হয়।

২০ এপ্রিল সোমবার রাতে নিহত কাওসারের মা রওশনআরা বেগমবাদী হয়ে ৭ জনকে সুনির্দিষ্ট ও ৫/৬জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে বানারীপাড়া থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেন।আসামীরা হলেন কাঞ্চন হাওলাদার(৪৫),শিফাতউল্লাহ (২৫),পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম (৩৫),শুক্কুর(৫০),বেল্লাল (২৮),রমজান (২২) ও জহিরুল (৩২)। এছাড়াও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত রোববার ভোর রাত ৪টার দিকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় কাওসার মারা যায়। গত ১১এপ্রিল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে করপাড়া গ্রামের ওই আসামীরা পার্শ্ববর্তী নলশ্রী গ্রামে গিয়ে মৃত আ.রব কবিরাজের ছেলে কাওসারকে ধরে এনে বেদম মারধর করে। ঘটনার পর থেকে আসামীরা তাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখায় সে চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয়।

রোববার ১৯ এপ্রিল তার অবস্থার অবনতি ঘটলে স্বজনরা উদ্ধার করে তাকে প্রথমে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ভোর রাত ৪টায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকালে কাওসারের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য কাওসারের ওপর হামলাকারীরা তাকে ছাড়াও ১০ ও ১১এপ্রিল ৭যুবককে নির্মম নির্যাতন করে আহত করে বেঁধে রাখে।স্থানীয় চৌকিদার আ.খালেক তাদের উদ্ধার করেন। কাওসার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কাওসারের বড় ভাই মিজানুর রহমানকে ২০০৭ সালে প্রতিপক্ষরা পিটিয়ে হত্যা করেছিল। কাওসার মার্ডারে সেই হত্যা মামলায় জামিনে থাকা আসামীদের ইন্ধন থাকার অভিযোগ উঠেছে।

বানারীপাড়া থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান নজরুল ইসলামকে বুধবার দুপুরে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বাকী আসামীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Sharing is caring!