কাউন্সিলর সেলিনা পারভীনের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর ও বিএনপি নেত্রী সেলিনা পারভীনের বিরুদ্ধে সরকারী আইন অমান্য করে জালিয়াতির মাধ্যমে নিজ দলীয় কর্মীদের মাঝে বয়স্ক ভাতা প্রদান এবং সেই ভাতার ৫০ ভাগ আত্মসাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আল মামুন তালুকদার বলেন, যে কোন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমি উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সব অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর সেলিনা পারভীন বলেন, এগুলো মিথ্যা। বিরোধী দলের ষড়যন্ত্রের শিকার আমি।

অভিযোগ রয়েছে, ২৪ নং ওয়ার্ডের ধান গবেষণা সড়কের বাসিন্দা আঃ খালেকের পুত্র ও বিএনপি কর্মী মোঃ মাতুইন এর ভোটার আইডি অনুসারে বর্তমান বয়স ৫৭ বছর। কিন্তু সেই আইডি কার্ডে জালিয়াতি করে জন্ম ২/১/১৯৫৪ দেখিয়ে নিচ্ছেন বয়স্ক ভাতা। যদিও সেই ভাতার টাকার ৫০ ভাগ দিতে হচ্ছে কাউন্সিলর সেলিনার সচিব নিজামকে। আক্কেল আলী ও রিজিয়া বেগমের আইডি কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে জন্ম ৩/৭/১৯৫৭ বয়স দেখিয়ে ভাতা প্রদান করার ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে।

শুধু এরাই নন, আরও অনেকের আইডি কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাত করা হচ্ছে দরিদ্র মানুষের হক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লালাদীঘির পাড়ের এক বাসিন্দা বলেন, আমার বয়স ৬৫ বছরের চেয়ে মাত্র ২ মাস কম। অনেক অনুরোধ করেও ভাতার কার্ড পাইনি। যেখানে আমার থেকে বয়সে ৫/৭ বছরের ছোট ব্যক্তিও ভাতার কার্ড পান।

এ প্রসঙ্গে যুবলীগ কর্মী আমির হোসেন বলেন, শুধু কাউন্সিলর সেলিনা এবং সচিব নন, এই দুর্নীতির দায় সংশ্লিষ্ট সমাজ সেবা কর্মকর্তারাও এড়াতে পারেন না। ২৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নাজমুল হুদা বলেন, বিষয়টি আমিও জানি। আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছি।

Sharing is caring!