কাউন্সিলর চাল না দেয়ায় জাল পুড়িয়ে ফেলেছেন দুই জেলে!

প্রকাশিত: ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

আমতলী প্রতিনিধি ॥ “কাউন্সিলর চাল না দেওয়ায় মোর স্বামী জাল পুইড়্যা হ্যালাইছে, এ্যাহোন মুই ক্যামনে মোর পোলাপান লইয়্যা খামু। পোনেরো দিন আগে গ্রামীণ ব্যাংক অইতে ৪০ আজার টাকা লোন লইয়্যা জাল-নৌকা বানাইছে। হেই জাল মোর স্বামী ক্ষোভে দুঃখে পুইড়্যা হালাইছে। এ্যাহন মুই কি দিয়া গুরাগারা লইয়্যা খামু আর কি দিয়া কিস্তি দিমু।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়া বেঙ্গলী গ্রামে এ কথা বলেছেন জেলে শহীদ বিশ্বাসের স্ত্রী সামসুন্নাহার। তিনি আরো বলেন, ‘‘কাউন্সিলরকে পায়ে ধরে কইছি আমনে মোর স্বামীর নামডা দেন কিন্তু হ্যাতে কাম অয় নায়। কাউন্সিলর কালু কইছে তোর স্বামী প্রকৃত জেলে হওয়ার পরেও মুই চাউল দিমু না।” ঘটনা ঘটেছে আমতলী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের নয়া বেঙ্গলী গ্রামে সোমবার সন্ধ্যায়। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, আমতলী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের জেলে শহীদ বিশ্বাস ও লিটন সিকদার দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পায়রা নদীতে মাছ শিকার করে আসছেন। ওই হিসেবে জেলেদের নামে সরকারিভাবে সকল বরাদ্দ পেয়ে আসছেন দুই জেলে। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য আমতলী পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয় কাউন্সিলর পরিবর্তন হলে ভাগ্য বদলে যায় দুই জেলের। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে কাউন্সিলর মো. কালু খলিফার সমর্থন না করায় জেলে হিসেবে সরকার কর্তৃক সকল বরাদ্দ বাতিল করে দেন তিনি। বিগত বছরে তারা জেলে হিসেবে সকল বরাদ্দ পেয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে ৪ দফায় চাল দিলেও এই দুই জেলে কোনো চাল পাননি। সোমবার সন্ধ্যায় দুই জেলে শহীদ বিশ্বাস ও লিটন সিকদার চাল না পেয়ে ক্ষোভে দুঃখে লক্ষাধিক টাকার জাল পুড়ে ফেলেছেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ভাইরাল হয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. মনিরা পারভীন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মাহবুবুল আলমকে ডেকে দুই জেলেকে সহায়তার নির্দেশ দেন। তাদের উপার্জনের একমাত্র সম্বল জাল পুড়িয়ে ফেলায় পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে দুই জেলেকে। জেলে শহীদুল ইসলাম ও লিটন সিকদার বলেন, আমরা গত ২০ বছর ধরে পায়রা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছি। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা নদীতে যাইনা। গত ১০ বছর ধরে সরকারি সকল ধরনের সহায়তা পেয়েছি। বর্তমান কাউন্সিলর মো. কালু খলিফা আসার পরেই আমাদের সকল সরকারি বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছেন। বহু হাতে পায়ে ধরেছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তাই ক্ষোভে দুঃখে সমুদয় জাল পুড়িয়ে ফেলেছি। আমতলী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. মেনহাজ উদ্দিন চৌকিদার বলেন, এই ওয়ার্ডে ১০ জন প্রকৃত জেলে রয়েছেন। তার মধ্যে শহিদ বিশ্বাস ও লিটন অন্যতম। গত ১০ বছর ধরে এরা সরকারের সকল বরাদ্দ পাচ্ছেন। বর্তমান কাউন্সিলর মো. কালু খলিফার সাথে তার মুঠোফোনে (০১৭৩০১৭৮৩৩৯) বার বার যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ওই দুই জেলের জেলে কার্ড হয়নি। আগামী অর্থবছর থেকে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারের দেয়া সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. মনিরা পারভীন বলেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর টাস্কফোর্স কমিটির সভায় ওই দুই জেলেকে জেলে কার্ড দেয়া হবে। এরপরে তারা সকল সুযোগ সুবিধা পাবেন।

Sharing is caring!