কলাপাড়ায় ৫ দিনেও খোঁজ মেলেনি যুবকের : গ্রেফতার ২ : মাদক ব্যবসার বিরোধ!

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ মাদক ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে ইয়াবাসহ মাদকের পাঁচ মামলার আসামি মোঃ রায়হানকে (২২) হাত-পা বেধে বেধড়ক মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের ঘটনাটি এখন মানুষের কাছে রহস্যময় মনে হচ্ছে। পুলিশও সোমবার বিকেলে কুয়াকাটা পৌরসভার মোথায়পাড়া থেকে এক আসামি ইলিয়াসকে গ্রেফতারের পরে বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছে। এর আগে আলীপুর বন্দর থেকে রবিবার রাতে ইউসুফ ঘরামিকে (২২) গ্রেফতার করা হয়। মোথায়পাড়ায় মাটির নিচ থেকে ১০লিটার চোলাই মদ এবং মদ তৈরির ৫৭৫ লিটার কাঁচামালসহ উপকরণ জব্দ করেছে। মহিপুর থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান ধারণা করছেন, নিখোঁজ রায়হান এবং জড়িত আসামিচক্র সবাই মাদকের সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে। এদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিরোধের কারণে রায়হানকে মারধরের ঘটনা ঘটতে পারে।

 

ইলিয়াসকে গ্রেফতারের পরে রায়হান আত্মগোপনে থাকার শঙ্কাও করেছে পুলিশ। তবে পাঁচ দিন পরও রায়হানের খোঁজ না পাওয়ায় তার পরিবারে এক ধরনের অজানা শঙ্কা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় রায়হানের বাবা কাশেম নিয়া নয় জনকে আসামি করে রবিবার রাতে মহিপুর থানায় একটি মামলা করেছেন। পরিবারের ভাষ্য, মহিপুর গ্রামের রায়হান বৃহস্পতিবার দুুপুরে বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে শ^শুর বাড়ি তালতলী যান। এরপর থেকে তার কোন খোঁজ নেই। শুক্রবার থেকে তাকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে লতাচাপলীর ফাঁসিপাড়া গ্রামের নেছার সিকদারের ছেলে কিশোরগ্যাং ইমাম শিকদারের নেতৃত্বে চার/পাঁচ জনকে রায়হানকে নির্দয় নির্যাতন চালাতে দেখা গেছে। ইমাম ছাড়াও মসিউর, ইমরান, বিপ্লব শীলকে চিনতে পেরেছেন বলে কাশেম মিয়ার দাবি।

 

কাশেম মিয়া জানান, স্থানীয় শাজাহান শিকদারের মাধ্যমে শুক্রবার ফেসবুকের ভিডিওতে দেখা যায় রায়হানকে গাছের সঙ্গে হাত-পা বেধে একটি নির্জন বনের মধ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় পেটানো হচ্ছে। ইমাম শিকদারের (ইমন) নেতৃত্বে ৪/৫ সন্ত্রাসী রায়হানকে বেধড়ক পেটাচ্ছে। এসব দেখার পরে কাশেম মিয়া ছেলে রায়হানের কথা জানতে ছেলেবউ মহিমার কাছে মোবাইল করেন। কিন্তু রায়হান শ^শুর বাড়ি যাননি বলে জানতে পারেন। রায়হানের স্ত্রীও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

 

উপায়হীন রায়হানের বাবা আবুল কাশেম শুক্রবার রাতে ইমাম সিকদার ছাড়াও পুরান মহিপুর গ্রামের মৃত আতাহার হাজীর ছেলে মোঃ মসিউর, কমরপুর গ্রামের রহিম বয়াতির ছেলে ইমরান ও মহিপুর গ্রামের রনজিৎ শীলের ছেলে বিপ্লব শীলের নাম উল্লেখ করে আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত উল্লেখ করে মহিপুর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। সবশেষ নয়জনের নামে রবিবার রাতে মামলা করেন। কিন্তু রায়হানকে উদ্ধার করা যায়নি। আবুল কাশেম বলেন, ‘ইমাম সিকদার মোবাইল করে আমাকে হুমকি দিয়ে বলে আপনার ছেলেকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি, বেশি বাড়াবাড়ি করলে আরো খারাপ হবে।’