কলাপাড়ায় যুবককে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ২ : মাদক ‍উদ্ধার

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১

 

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ কলাপাড়ায় ভাড়াটে মোটরসাইকেল চালক, শুঁটকি ব্যবসায়ী মোঃ রায়হানকে (২২) হাত-পা বেধে বেধড়ক মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের ঘটনায় আরেক আসামি ইলিয়াসকে পুলিশ সোমবার বিকেলে কুয়াকাটা পৌরসভার মোথাউপাড়া থেকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে আলীপুর বন্দর থেকে রবিবার রাতে ইউসুফ ঘরামিকে (২২) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া মোথাউপাড়ায় মাটির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ এবং মদ তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে। এ ঘটনায় রায়হানের বাবা কাশেম নিয়া নয় জনকে আসামি করে রবিবার রাতে মহিপুর থানায় একটি মামলা করেছেন। কিন্তু নির্যাতিত রায়হানের কোন খোঁজ মেলেনি। তার পরিবারে চলছে অজানা শঙ্কা। মহিপুর গ্রামের রায়হান বৃহস্পতিবার দুুপুরে বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে শ^শুর বাড়ি তালতলী যান। এরপর থেকে তার কোন খোঁজ নেই। শুক্রবার থেকে তাকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে লতাচাপলীর ফাঁসিপাড়া গ্রামের নেছার সিকদারের ছেলে কিশোরগ্যাং ইমাম শিকদারের নেতৃত্বে চার/পাঁচ জন রায়হানকে নির্দয় নির্যাতন চালাতে দেখা গেছে। ইমাম ছাড়াও মসিউর, ইমরান, বিপ্লব শীলকে চিনতে পেরেছেন বলে কাশেম মিয়ার দাবি।
কাশেম মিয়া জানান, স্থানীয় শাজাহান শিকদারের মাধ্যমে শুক্রবার ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখতে পান। ভিডিওতে দেখা যায় রায়হানকে গাছের সঙ্গে হাত-পা বেধে একটি নির্জন বনের মধ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় পেটানো হচ্ছে। ইমাম শিকদারের (ইমন) নেতৃত্বে ৪/৫ রায়হানকে বেধড়ক পেটাচ্ছে। এসব দেখার পরে কাশেম মিয়া ছেলে রায়হানের কথা জানতে ছেলেবউ মহিমার কাছে মোবাইল করেন। কিন্তু রায়হান শ^শুর বাড়ি যাননি বলে জানতে পারেন।

 

রায়হানের স্ত্রীও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। উপায়হীন রায়হানের বাবা আবুল কাশেম শুক্রবার রাতে ইমাম সিকদার ছাড়াও পুরান মহিপুর গ্রামের মৃত আতাহার হাজীর ছেলে মোঃ মসিউর, কমরপুর গ্রামের রহিম বয়াতির ছেলে ইমরান ও মহিপুর গ্রামের রনজিৎ শীলের ছেলে বিপ্লব শীলের নাম উল্লেখ করে আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত উল্লেখ করে মহিপুর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। সবশেষ নয়জনের নামে রবিবার রাতে মামলা করেন। কিন্তু রায়হানকে উদ্ধার করা যায়নি। আবুল কাশেম বলেন, ‘ইমাম সিকদার মোবাইল করে আমাকে হুমকি দিয়ে বলে আপনার ছেলেকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি, বেশি বাড়াবাড়ি করলে আরো খারাপ হবে।’

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসামিরা এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারী। মাদক কারবারের দায়ে একাধিকবার তারা পুলিশের হাতে আটক হয়েছে এবং তাদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। এরা একটি গ্যাংগ্রুপ। মহিপুর থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, মামলা হয়েছে। দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রায়হানকে উদ্ধার চেষ্টা চলছে। তবে গোটা বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানান গুঞ্জন রয়েছে। কারণ নিখোঁজ রায়হানও মাদক কারবারি ছিলেন। মাদক ব্যবসার টাকা-পয়সা কিংবা মাদক ভাগাভাগির ঘটনাও এই ঘটনার কারণ থাকতে পারে বলে একটি মহলের দাবি।