কলাপাড়ায় যুবককে নির্যাতন : গ্যাংগ্রুপ গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান

প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২১

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ কলাপাড়ার মহিপুরে ভাড়াটে মোটরসাইকেল চালক ও শুঁটকি ব্যবসায়ী মোঃ রায়হানকে (২২) অপহরণ করে গাছের সঙ্গে বেধে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। তিন দিন ধরে ওই যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। তার পরিবারে চলছে অজানা শঙ্কা। মহিপুর ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার ছেলে রায়হান বৃহস্পতিবার দুুপুরে বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে শ^শুর বাড়ি তালতলী যান। এরপর থেকে তার কোন খোঁজ নেই। শুক্রবার থেকে তাকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়।

 

এ ঘটনায় মহিপুর থানায় কাশেম মিয়া একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। যেখানে লতাচাপলীর ফাঁসিপাড়া গ্রামের নেছার সিকদারের ছেলে কিশোরগ্যাং ইমাম শিকদারের নেতৃত্বে চার/পাঁচ জন সন্ত্রাসী নির্দয় নির্যাতন চালায় বলে উল্লেখ রয়েছে। ইমাম ছাড়াও মসিউর, ইমরান, বিপ্লব শীলের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মহিপুর থানা পুলিশ এর মধ্যে ইমাম ও মশিউরকে ভিডিওর মাধ্যমে শনাক্ত করতে পারলেও জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। খোঁজ মেলেনি রায়হানের।

 

কাশেম মিয়া জানান, স্থানীয় শাজাহান শিকদারের মাধ্যমে শুক্রবার ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখতে পান। ভিডিওতে দেখা যায় রায়হানকে গাছের সঙ্গে হাত বেধে একটি নির্জন বনের মধ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালাচ্ছে। ইমাম শিকদারের (ইমন) নেতৃত্বে ৪/৫ সন্ত্রাসী রায়হানকে বেধড়ক পেটাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে রায়হানের অবস্থান জানতে ছেলেবউ মহিমার কাছে মোবাইল করেন। কিন্তু রায়হান শ^শুর বাড়ি যাননি বলে জানতে পারেন কাশেম মিয়া। রায়হানের স্ত্রীও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। উপায়হীন রায়হানের বাবা আবুল কাশেম শুক্রবার রাতে ইমাম সিকদার ছাড়াও পুরান মহিপুর গ্রামের মৃত আতাহার হাজীর ছেলে মোঃ মসিউর, কমরপুর গ্রামের রহিম বয়াতির ছেলে ইমরান ও মহিপুর গ্রামের রনজিৎ শীলের ছেলে বিপ্লব শীলের নাম উল্লেখ করে আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী উল্লেখ করে মহিপুর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

 

কিন্তু রায়হানকে উদ্ধার করা যায়নি। কিংবা জড়িত কোন সন্ত্রাসী গ্রেফতার হয়নি। আবুল কাশেম বলেন, ‘ইমাম সিকদার তার ব্যবহৃত মেবাইল নম্বর থেকে ফোন করে আমাকে হুমকি দিয়ে বলে আপনার ছেলেকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি, বেশি বাড়াবাড়ি করলে আরো খারাপ হবে।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসামিরা এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারী। মাদক কারবারের দায়ে একাধিকবার তারা পুলিশের হাতে আটক হয়েছে এবং তাদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। এরা একটি গ্যাংগ্রুপ। মহিপুর থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগ দেয়নি। মৌখিকভাবে জানানোর পর থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। রায়হানকে উদ্ধার চেষ্টার পাশাপাশি আসামি গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।