কলাপাড়ায় গাইড ওয়াল করে চলছে নদী দখল ॥ দেখার কেউ নেই

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২০

কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ কোন কিছুতেই করোনাকালেও থামছে না সোনাতলা নদী দখল সন্ত্রাস। এবার নদীর মধ্যে গাইড ওয়াল করে দখল করা হচ্ছে। সেখানে স্থাপন করার চেষ্টা চলছে দোকানপাট করার। সোনাতলা নদীর তেগাছিয়া খেয়াঘাটের উল্টোদিকে পশ্চিমপাড়ে এই দখল প্রক্রিয়া চলছে ফ্রি-স্টাইলে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ভূমি অফিসের তহশিলদাররা শুধু খেয়ে পড়েই দিন পার করছেন।

মাঠ পর্যায়ের এসব কর্মকর্তারা এপথে চলাচল করছেন। কিন্তু সরকারি বেতনভোগী এ কর্মচারীর সরকারি নদী রক্ষায় নেই কোন উদ্যোগ। মাস শেষ বেতনটাই তোলা এদের মুখ্য কাজে পরিণত হয়েছে। খেয়ার টোল আদায়কারী এক যুবক জানান, ভাটার সময় নদীর মধ্যে গভীর করে খনন করে মাটি তুলে সেখানে ইটের গাইড ওয়াল তুলে এখন নদীতীরসহ মূল নদী পর্যন্ত মাটি দিয়ে ভরাট করছে। সোনাতলা গ্রামের প্রভাবশালী হারুন গাজী, মোতালেব চৌকিদার ও জসিম চৌকিদার এই দখল প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ফ্রি-স্টাইলে; এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

যেন নিয়ম-কানুনের কোন বালাই নেই। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সোনাতলা নদীটি দুইদিকে আন্ধারমানিকের সঙ্গে মিশেছে। এনদীটির সঙ্গে অসংখ্য স্লুইস সংযুক্ত বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরের স্লুইস খালের সংযোগ রয়েছে। নদীটি রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। বর্তমানে নদীটি দখল করে শিববাড়িয়া পয়েন্টে মাছের ঘের করা হয়েছে। ৫/৬টি ইটভাটি করা হয়েছে। এসব এখন শুরুতেই নির্মূল করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। করোনাকালে এভাবে নদী দখল তাও আবার গাইড ওয়াল করে। বিষয়টি অবাক করেছে সাধারণ মানুষকে। তারা এর প্রতিকার চেয়েছেন।

অভিযুক্ত হারুন গাজীর সোজাসাপটা কথা; ‘আমিই ভরাট করছি। দেহি যদি দোকানপাট করা যায়। আর যদি কন তো ভাইঙ্গা নিমু।’ কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, দখলদার যেই হোক না কেন দখলমুক্ত করতে হবে।

Sharing is caring!