কলাপাড়ায় আয়রন ব্রিজ ভেঙে খালে : পাঁচ গ্রামের কৃষকের দুর্ভোগ

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥

কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর নির্মিত আয়রন ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে ডুবে যায়। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় সবজির গ্রাম কুমিরমারাসহ পাঁচ গ্রামের মানুষের বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকসহ সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে পাখিমারা খালের উপর দুই দফায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় প্রায় ১১৬ মিটার দীর্ঘ এ ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ব্রিজটি নির্মাণ করে। পুরনো আয়রন ব্রিজের মালামাল খুলে এ ব্রিজটি নির্মাণ করার শুরু থেকেই মানুষের মধ্যে ছিলো ভয় ও আতংক। কেননা ব্রিজ নির্মাণের সময় খালে ঠিকভাবে লোহার খুঁটিগুলো পোঁতা হয়নি। লাগানো হয়নি খুঁটির সাথে আড়াআড়ি লোহার এ্যাঙ্গেল। একারণে ব্রিজটিতে মানুষ চলাচল করলেই নড়ত। অবশেষে বুধবার রাতে হঠাৎ ব্রিজটি ভেঙে প্রায় ৯০ ভাগ খালে পড়ে তলিয়ে যায়।

দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া কৃষক রুহুল আমিন মৃধা জানান, পাখিমারা বাজার থেকে কুমির গ্রামের বাসায় ফিরছিলেন সেতু পার হয়ে। সেতুর মাঝ বরাবর আসার পর হঠাৎ বিকট শব্দ করে সেতুর কুমিরমারা অংশ ভেঙে পড়তে শুরু করে। তিনি ভয়ে পেছনের দিকে দৌড় দিলে তাও ভেঙে পড়ে কাৎ হয়ে গেলে তিনি খালে পড়ে যান। খালে প্রচ- স্রোত ও কচুরিপানা থাকায় প্রায় দশ মিনিট অন্ধকারে পানিতে হাবুডুবু খাওয়ার পর তীরে উঠতে সক্ষম হন। স্থানীয়রা জানান, এ সেতু পার হয়ে কুমির মারা, মজিদপুর, এলেমপুর, বাইনতলা, ফরিদগঞ্জ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। এ ইউনিয়ন কৃষিতে সমৃদ্ধ হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে এ গ্রামগুলো থেকে সবজি কিনে নেয়। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় এখন সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন সবজি চাষী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

কলেজ ছাত্র মো. বায়েজিদ, ইমরান ও তাসলিমা জানায়, হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে। তখন খেয়া পার হয়ে ঝড়, বৃষ্টির মধ্যে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হবে। এতে দুর্ঘটনার আশংকা করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও।

নীলগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. নাসির মাহমুদ জানান, ব্রিজ ভেঙে পড়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ডিঙ্গি নৌকায় করে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, সেতু ভেঙে পড়ায় খবর তিনি পেয়েছেন। এখন বিকল্প উপায়ে চলাচল অব্যাহত রাখতে ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। সেতুটি সংস্কারের বিষয়ে এলজিইডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

কলাপাড়া এলজিইডির প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন জানান, পাখিমারা খালে আগে ছিলো কাঠের পুল। উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্তে ছয় বছর আগে একটি পুরনো আয়রন সেতুর মালামাল দিয়ে ওই খালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কলাপাড়া উপজেলায় ভেঙে পড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলেই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

Sharing is caring!