কলাপাড়ার প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ১১ পদের আটটি‍ই শূন্য

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে অফিসারসহ আটটি পদ দীর্ঘ দিন থেকে শূন্য রয়েছে। থাকার কথা ১১ জনবল। কিন্তু রয়েছেন মাত্র তিনজন। ফলে উপজেলার কৃষক ও খামারিরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় উপকরণ ও ওষুধ সঙ্কটে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। ক্ষতির শিকার হচ্ছে হাঁসÑমুরগি, গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া ও কবুতর-কোয়েল খামার মালিকসহ খামারি ও গৃহপালিত পশুপাখির মালিকরা। একদিকে অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছেনা, অপর দিকে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন খামারিসহ সাধারণ কৃষকসহ সকল শ্রেণির মানুষ।

 

জানা গেছে, উপজেলায় ১১পদ থাকলেও শূন্য রয়েছে ৮টি। কিন্তু কর্মরত আছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, একজন কম্পাউন্ডার, একজন ড্রেসারসহ মাত্র তিন জন। এক জন ভেটেরিনারি সার্জন, চার জন মাঠ পর্যায়ের স্টাফ, এক জন এফএ, একজন অফিস সহকারি, এক জন অফিস সহায়ক পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় গরু-মহিষের ৪১৭ ও ছাগল-ভেড়ার ৫৮১ ও হাঁস-মুরগির ২৭০টি খামার রয়েছে।

 

প্রাণীকে সম্পদে পরিণত করতে সরকার প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গঠন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রতি উপজেলায় সাবেক পশু হাসপাতালকে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর নামকরণের মাধ্যমে কৃষকের গবাদি পশু ও খামারিদের পরামর্শ প্রদান, ওষুধ বিতরণসহ সার্বিক সহযোগিতা করার কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নতজাতের গবাদি পশু ও হাঁস- মুরগি উৎপাদন করার লক্ষ্য নিয়ে চলছে বিভিন্ন কার্যক্রম। দেশে ডিম, দুধ ও মাংসের চাহিদা বৃদ্ধি করা। কিন্তু প্রয়োজনীয় উপকরণ, জনবল, ওষুধ ডাক্তার সঙ্কটে পিছিয়ে পড়ছেন এখানকার ডেইরি ও পোলট্রি খামারিসহ কৃষকরা। মাত্র তিনজন লোক দিয়ে উপজেলার পশু চিকিৎসা কার্যক্রম কোনমতে চলে আসছে। চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পশুপাখির চিকিৎসা সেবা। ক্ষতির শিকার হচ্ছেন খামারিরা। এমনকি এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে প্রাণিসম্পদের যথাযথভাবে প্রয়োগ করা যাচ্ছেনা লোকবল সঙ্কটে।

 

একাধিক খামারি জানান, মাঠ পর্যায়ে পরামর্শসহ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে জনবল সঙ্কট দূর করা প্রয়োজন। সকল পদে পদায়ন করা প্রয়োজন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, দীর্ঘ দিন ধরে পদ গুলো শূন্য থাকার কারণে কৃষকদের গবাদি পশু ও খামারিদের পরামর্শ প্রদান করতে সমস্যা হচ্ছে। ফিল্ড স্টাফ না থাকায় কৃষকের গবাদি পশু ও খামারিদের চিকিৎসা চালাতে এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।