করোনা মোকাবেলায় বাসদ’র কার্যক্রম বন্ধে ষড়যন্ত্র

প্রকাশিত: ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশালে সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের অক্সিজেন ব্যাংক, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, ফ্রি চিকিৎসা ও মানবতার বাজার সহসকল কার্যক্রম বন্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১০ টায় নগরীর ফকিরবাড়ি রোডে বাসদ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির জেলা শাখার সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নগরীর মাতৃছায়া স্কুলে বাসদ কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ওই কোচিং সেন্টারের স্থাপনা ও জমির মালিক বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করায় ওই কোচিং সেন্টার বরিশাল সিটি কলেজের অধ্যক্ষ সুজিত কুমার দেবনাথের কাছে ভাড়া দেয়া হয়। করোনাকালীন সময়ে কোচিং সেন্টারটি বন্ধ থাকায় তারা অব্যবহৃত ৪টি রুম ব্যবহারের অনুমতি চাইলে সুজিত কুমার তা ব্যবহারের অনুমতি দেন। গত জুন মাসে সুজিত কুমার দেবনাথ ওই ৪টি রুমের জন্য ৫ লক্ষ টাকা অ্যাডভান্স এবং ৩৫ হাজার টাকায় ভাড়া নেয়ার কথা বলেন।

কিন্তু তাদের পক্ষে এত টাকা দেয়া কঠিন বিধায় পরবর্তীতে সুজিত কুমার ৩ লক্ষ টাকা অ্যাডভান্স এবং ৩২ হাজার টাকা ভাড়ার কথা বলে ৩ বছরের চুক্তি করার জন্য তাগাদা দিতে থাকেন। পরে জমির মালিক এর সাথে কথা বলে তারা জানতে পারেন সুজিত কুমারের সাথে ২০১৭ সালে তাদের চুক্তি শেষ হয়েছে। ফলে সুজিত কুমারের ওই রুম ভাড়া দেয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মালিক পরিবারের সাথে তাদের আলোচনার বিষয়টি জানতে পেরে সুজিত কুমার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে রুমগুলো ছেড়ে দিতে বলেন।

এমনকি তাদের কাজে বাধা প্রদান করে গেটে তালাবদ্ধ করে রাখেন। তিনি এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করায় এখান থেকে করোনা ছড়াতে পারে এমন গুজব ছড়িয়ে আশেপাশের মানুষকে ক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করেন। এবং তাদের ভলান্টিয়ারদের সম্পর্কেও নানা বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাতে থাকেন। ক্রমাগত চাপ দেয়ার ফলে তারা সুজিত কুমারের কাছে অনুরোধ করে ২/৩ মাস সময়ের দাবি জানান। যাতে তারা নতুন জায়গা খুঁজে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারেন। কিন্তু সুজিত কুমার তা মেনে নেননি বরং গত ২৪ তারিখে ২/৩ জনকে সাথে নিয়ে কার্যালয় কম্পাউন্ডে ঢুকে ভলান্টিয়ারদের গালিগালাজ করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।

রাত সাড়ে ১০ টায় ১৫/২০টি মোটরসাইকেল যোগে ২৫/৩০ জন যুবক সুজিত কুমারের রুমে মিটিং করে। মিটিং শেষে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে এলাকায় আতংক জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। করোনা মোকাবেলায় এই সামাজিক কাজগুলো বন্ধ হলে বরিশালের জনসাধারণ বিপদে পড়বে। সাধারণ মানুষদের এই অসহায় অবস্থার মধ্যে ফেলে দিতে পারেন না বলে জানিয়েছেন তারা। করোনা মোকাবেলায় সকল কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসন সহ বরিশালবাসী সকলের যথাযথ উদ্যোগ প্রত্যাশা করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Sharing is caring!