করোনা ভাইরাস : বাড়ছে দ্বিতীয়বার আক্রান্তের সংখ্যা, কমেছে সংক্রমণ শঙ্কা

প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০২১

শফিক মুন্সি ॥ মাইনুল ইসলাম (ছদ্মনাম) বরিশাল নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ড সাগরদী এলাকার বাসিন্দা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত এই ব্যক্তি গত মে মাসে সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হন। সেসময় তাকে চিকিৎসার জন্য দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র করোনার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কেন্দ্র শের ই বাংলা হাসপাতালে যেতে হয়। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর গত আগস্ট মাসে পুনরায় তাঁর দেহে করোনা শনাক্ত হয়। নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার আরেক বাসিন্দা ইশরাত জাহান রিংকি। পেশায় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সরকারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি জুন মাসে করোনা আক্রান্ত হবার পর জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে নেগেটিভ হন। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাসে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাবার পর পুনরায় করোনা পরীক্ষা করাতে হয় তাকে। এবার পুনরায় তাঁর দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতির তথ্য দেন চিকিৎসকেরা।

 

 

রিংকি কিংবা মাইনুলের মতো এমন ঘটনা অনেকের সঙ্গেই হয়েছে। সাধারণত দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার (ইমিউনিটি সিস্টেম) ওপর নির্ভর করে করোনা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা। যার প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তিনি একাধিকবার আক্রান্ত হতে পারেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সংক্রমণের শঙ্কা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারে টিকা। যা ইতোমধ্যে পৌঁছেছে দক্ষিণের পাঁচটি জেলায়। প্রয়োগ শুরু হতে পারে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে।

 

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শুক্রবার বরিশালে প্রথম চালানে মোট ২৯ কার্টন টিকা এসে পৌঁছেছে। প্রতি কার্টনে ১ হাজার ২০০ ভায়েল (শিশি) টিকা রয়েছে। প্রতি ভায়েলে রয়েছে ১০টি ডোজ। এদিনই বিভাগের পাঁচটি জেলায় টিকা পৌঁছে দিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

তবে প্রথম চালানে পিরোজপুর জেলার জন্য টিকা আসে নি। আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের টিকা আসবে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বরিশাল জেলায় ১ লাখ ২০ হাজার ব্যক্তি, ঝালকাঠিতে ১২ হাজার ব্যক্তি, ভোলায় ৬০ হাজার ব্যক্তি, পটুয়াখালীতে ৪৮ হাজার এবং বরগুনায় ২৪ হাজার ব্যক্তি টিকা পাবেন।

 

এসব ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ জাতীয় রোগে একবার আক্রান্ত হলে দ্বিতীয়বার আক্রান্তের সম্ভাবনা কম থাকে। কিন্তু করোনার ক্ষেত্রে এমন কোন প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপিত হয় নি। বরঞ্চ বিভাগজুড়ে অনেকে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রুখতে একমাত্র কার্যকর পন্থা টিকা গ্রহণ। যা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের শেষের দিক থেকে বরিশালে গ্রহণ শুরু করবে জনসাধারণ’।

 

দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না বলে জানিয়েছেন শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন। তিনি বলেন,‘ সংক্রমণের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এমন কোন তথ্য আসে নি যেটাকে ভিত্তি করে বলা যায় করোনা ভাইরাস দ্বিতীয়বার মানুষকে আক্রান্ত করবে না’।

তিনি আরো জানান, করোনা আক্রান্ত হবার পর সুস্থ হয়ে পুনরায় আক্রান্ত হয়েছে এমন উদাহরণ কম নয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর মূলত নির্ভর করে কে আক্রান্ত হবেন আর কে হবেন না। তাই করোনা মুক্ত থাকতে যেকোনো ওষুধের চেয়ে টিকা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন এই চিকিৎসক।

আর টিকা আসায় সংক্রমণ শঙ্কা কমছে বলে জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ জসীম উদ্দীন হায়দার। তিনি জানান, গত কয়েকদিন যাবত জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষজন টিকার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছেন, সংক্রমণ শঙ্কা দূর করতে টিকা গ্রহণে আগ্রহী মানুষের সংখ্যাও কম নয়। টিকা আসায় করোনা ভীতি কমেছে সকলের মাঝে।