‘মাস্কের অপর নাম জীবন’- পুলিশ কমিশনার

প্রকাশিত: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান- বিপিএম (বার) বলেছেন, ‘পানির অপর নাম জীবন। তেমনি ‘চলমান মহামারী পরিস্থিতিতে ‘মাস্কের অপর নাম জীবন’। করোনা মাহামারির বিরুদ্ধে বেঁচে থাকতে হলে আপনাকে মাস্ক পরতেই হবে। তাই করোনা প্রতিরোধে মাস্ক পরিধানকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

মঙ্গলবার বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানাধীন নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘করোনাকালে গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোর মানুষ যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তাহলে বাকিদের সুরক্ষা সহজ। পরিবহন সেক্টরের প্রত্যেকে একেজন যোদ্ধা, সৈনিক হিসেবে নিজেকে সুস্থ রেখে যাত্রীদের দূরত্ব, মাস্ক নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন।

বিএমপি কমিশনার বলেন, ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সরকার যে সকল যুগোপযোগী সরকারি নির্দেশনা, বিশেষ করে হাত ধোয়া, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরিধান করে চলাচল অবলম্বন করতে হবে। মনে রাখতে হবে এ যুদ্ধ শুধু একার বিষয় নয়, সবার। সরকারি এ নির্দেশনা যদি পালন না হয় তো অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে, দেশ পিছিয়ে যাবে।

নগর পুলিশ প্রধান শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘মানুষকে বাঁচাতে ইউরোপ আমেরিকার মত উন্নত দেশ পুনরায় লাকডাউন দিতে বাধ্য হয়েছে। অর্থনীতি, সচ্ছলতা পরের কথা, আগেতো মানুষকে বাঁচতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ইউরোপ, আমেরিকার মত যদি আপনারা লকডাউন না চান তাহলে এই করোনা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে। এমন কোন কাজ করা যাবে না যাতে আমাদের লকডাউনে যেতে হয়। লকডাউন যেন না আসে সেই সিদ্ধান্ত, সুরক্ষা সর্বসাধারণকে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবহন সেক্টরে যারা জড়িত তাদের মধ্যে ধৈর্য-সহনশীলতা রয়েছে, তা প্রমাণিত। তারা করোনা প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। পরিবহন সেক্টর চাইলে দেশের বৃহৎ অংশ সুরক্ষিত রাখতে পারে। একটি মাস্ক প্রায় ৮০ ভাগ জনগণকে সুরক্ষা দিবে। সুতরাং মাস্ক সঠিকভাবে নিজে পরতে হবে, যাত্রীদেরকে মাস্ক পরিয়ে গাড়িতে ওঠাতে হবে। গাড়ি থেকে ওঠানামার আগে-পরে জীবাণুনাশক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
কল্যাণের নামে অগ্রহণযোগ্য কোন চাঁদা বা অনিয়মের অভিযোগ পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে বিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আপনাদের আরও নির্ভেজাল পুলিশি সেবা দিতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ চলমান রেখেছি। যাবতীয় অনিয়ম বন্ধে আমাদের ইন্টেলিজেন্স কাজ করছে। সত্যিকারের আস্থার পুলিশি সেবার বাহিরে কোন আধিপত্য কেউ না করতে পারে সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে আমাকে জানাবেন। যে কোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথে আমাদের গোপনে বা প্রকাশ্যে জানাবেন। সবাই এক হয়ে কাজ করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটি নিরাপদ পরিবহন সেবা উপহার দেয়া সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএমপি কমিশনার।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. মোকতার হোসেন এর সভাপতিত্বে এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত কমিশনার প্রলয় চিসিম।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালী) মো. রাসেল এর সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাকির হোসেন মজুমদার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জাকারিয়া রহমান, কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম প্রমুখসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পরিবহন মালিক এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান সূচির একাংশে বিএমপি কমিশনার রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে বিভিন্ন পরিবহনে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক স্লোগানযুক্ত স্টিকার স্থাপন ও মাস্ক বিতরণ করেন।