করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণে ক্ষুব্ধ বরিশালের নাগরিক সমাজ

প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥ সরকারিভাবে করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে গত সোমবার পরিপত্র জারি করেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। পরিপত্র অনুযায়ী গতকাল বুধবার (১ জুলাই) থেকে করোনা পরীক্ষায় টাকা দিতে হচ্ছে বরিশালের নাগরিকদের। সরকারি এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বরিশালের সচেতন নাগরিক সমাজ। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে বিষয়টি উপরমহলের নির্দেশনা যেটা পরিবর্তন তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

বরিশাল জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গঠিত সরকারি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সিভিল সার্জন ডাঃ মনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, গতকাল থেকে নির্দিষ্ট বুথে গিয়ে নমুনা দিয়ে করোনা পরীক্ষায় এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য লাগছে ২০০ টাকা। তবে বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করানোর জন্য দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা।

বরিশাল বিএম (ব্রজমোহন) বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ স ম ইমানুল হাকিম করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণের ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যা দিলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা। বঙ্গবন্ধু আজীবন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষদের জন্য রাজনীতি করেছেন। এই শ্রেণীর কথা চিন্তা করে বর্তমান মহামারির সংকটকালীন সময়ে করোনা রোগ নির্ণয় করতে টাকা নেয়াটা দুঃখজনক। তিনি প্রশাসনের কাছে আহবান জানান তারা যেন ফি নেবার সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করে দেখেন।

করোনা পরীক্ষার ফি নির্ধারণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখা। সংগঠনটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুম্মন বলেন, দেশে মহামারী আকারে বিস্তার ঘটেছে করোনার। এ অবস্থায় করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ফি নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে সরকারের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ পেয়েছে। যেসব দেশ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে, সেসব দেশে ঘরে ঘরে গিয়ে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল। আর আমাদের সরকার উল্টো পথে হাঁটছে।

নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে করোনা পরীক্ষা বিনামূল্যে করার এমন আহ্বানে সাড়া দেবার উপায় নেই বলে জানান সিভিল সার্জন। তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারি উপরমহলের সিদ্ধান্ত। আমরা শুধু বাস্তবায়নের কাজ করছি। যদি সরকার পুনরায় কোন সিদ্ধান্ত নেয় যে পরীক্ষার ফি বিনামূল্যে কিংবা বর্তমান মূল্যের চেয়ে বেশি দিয়ে করতে হবে তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও আমরা এখনকার মতো পদক্ষেপ নেবো।

প্রসংগত, বাংলাদেশে শুরু থেকেই নতুন করোনাভাইরাস শনাক্তে নিউক্লিক এসিড নির্ভর টেস্ট (আরটি-পিসিআর) পরীক্ষা করা হয়। গত মার্চে প্রাদুর্র্ভাবের শুরুতে শুধু ’রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট’এ (আইইডিসিআর) নমুনা পরীক্ষা হলেও পরে তা বিস্তৃত হয়ে ৬০টির বেশি গবেষণাগারে এই পরীক্ষা হচ্ছে এখন।

রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ এপ্রিল চারটি বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার সুযোগ দেয় সরকার। পরে আরও কয়েকটি হাসপাতালে এই সুবিধা দেওয়া হয়। এসব হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার জন্য সাড়ে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

বর্তমানে দেশের ৬৮টি গবেষণাগারে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এসব নমুনা পরীক্ষার কিট সরবরাহ করছে সরকার। এখন দৈনিক নমুনা পরীক্ষা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে।