করোনা পরিস্থিতিতে বরিশালেও জমজমাট অনলাইন শপিং

প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে নিজেদের গৃহবন্দী অবস্থায় লকডাউন করে রেখেছেন দেশের মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে রয়েছে প্রশাসনের মানা। তার মধ্যে বাইরে গেলেই সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা। তাই গৃহবন্দী মানুষগুলোর ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে অনলাইন কেনাকাটা। বাইরে বের না হয়ে অনলাইনে অর্ডার করে ঘরে বসেই পেয়ে যাচ্ছেন চাহিদা অনুযায়ী মালামাল।
এদিকে করোনার এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হওয়ার পন্থা খুঁজে নিয়েছেন অনেকেই। বিশেষ করে যুব সমাজ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন কেন্দ্রিক বিভিন্ন নাম দিয়ে খুলেছে অনলাইন বাজার।

আবার পূর্বে চালু থাকা অনলাইন কেনাকাটার মাধ্যমগুলো করোনা পরিস্থিতিতে আরও জনপ্রিয় হয়েছে। অনেকটা প্রতিযোগিতাও চলছে অনলাইন কেনাকাটা ব্যবস্থাপনায়।

করোনা পরিস্থিতিতে বরিশাল নগরীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেজ ভিত্তিক অনলাইন মার্কেট পরিচালনা করছেন তসলিমা আক্তার নামের গৃহবধূ। নগরীর ফলপট্টির বাসিন্দা এই নারী উদ্যোক্তা তার প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন শিল্পীর ছোঁয়া ও আপ্যায়ন। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘করোনার মধ্যে সকল মানুষই চায় সুরক্ষিত থাকতে। এ কারণেই তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন মেটাতে আমাদের সামান্য প্রয়াস।

তিনি বলেন, ‘আমরা অনলাইন কেন্দ্রিক ব্যবসা করছি। অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অর্ডার গ্রহণ এবং মোবাইলে যোগাযোগ করে তা অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি। এতে খরচের বালাই নেই। বাইরের মার্কেটের তুলানায় কম দামেই সর্বোচ্চ মানের পণ্যটি ঘরে পৌঁছে দেওয়ায় আমাদের শিল্পীর ছোঁয়া ও আপ্যায়ন পেজটি এখন জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। করোনা সংক্রমণ রোধে মানুষকে নিরাপদে ঘরে রাখতেই এই উদ্যোগের মাধ্যমে করোনা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন এর উদ্যোক্তা।

অপর উদ্যোক্তা অনলাইন শপিং ড্রীম বুটিকস্ পেইজের মালিক মেঘলা ইমু জানান, এই করোনা মুহূর্তে দেশ যখন লকডাউনে থাকছে, মানুষ যখন ঝুঁকির মধ্যে বাজার করতে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বাড়িতে বসে অর্ডার করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের কর্মীরা নিজেরা সুরক্ষিত থেকে নিজস্ব পরিবহনে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ও নিরাপদ রেখে পণ্যটি পৌঁছে দিচ্ছেন গ্রাহকের দরজায়। তাদের পেজে মূলত মেয়েদের পোশাক সামগ্রীই বেশি বিক্রি হচ্ছে। দেশী বিদেশী থ্রি-পিসের সমাহার এই অনলাইন বাজারে। এতে বেশ সাড়াও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

শুধু এরাই নন, বরিশাল নগরীতে ফেসবুক ভিত্তিক বেশ কিছু অনলাইন শপ এর কার্যক্রম এখন দৃশ্যমান। নিজেদের পণ্যের বিক্রি এবং পরিচিতি অর্জনের জন্য অনেকে লাইভে এসে কথা বলছেন। আবার অনেকে দিচ্ছেন বিভিন্ন মূল্য ছাড়সহ আকর্ষণীয় পুরস্কারের ঘোষণাও। সর্বোপরি করোনা পরিস্থিতিতে জমেছে অনলাইন বাজার।

Sharing is caring!