করোনা উপসর্গ নিয়ে আমতলী থানার এসআই’র মৃত্যু

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

আমতলী প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে বরগুনার আমতলী থানার এসআই মেজবাহ উদ্দিন (৫৪) আজ সোমবার বিকেলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে আমতলী থানায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, এসআই মেসবাহ উদ্দিন (সশস্ত্র) গত বৃহস্পতিবার আমতলী থানায় ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই সময় তার জ্বর-সর্দি ও কাশি অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিক তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব (করোনা ল্যাব) প্রেরণ করে। চারদিন তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

শরীরের অবস্থার অবনতি হলে রবিবার রাতে আমতলী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই রাতেই তাকে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সোমবার বিকেলে তিনি ওই হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা ইউনিটে শ্বাসকষ্টে মৃত্যুবরণ করেন।

আমতলীতে এই প্রথম কোন পুলিশ সদস্য করোনা উপসর্গ নিয়ে মুত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে আমতলী থানায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার বাড়ি পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার বাদুরা গ্রামে। তার বাবার নাম ফখরুল ইসলাম হাওলাদার। করোনা ভাইরাসের উপসর্গে মৃত্যুরবণ করা এসআই মেজবাহ সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ছেলে ও দুই কন্যা রেখে গেছেন। ওইদিন রাতেই তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে দাফন করা হয়।

আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, গত বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এসআই মেজবাহ জ্বর-সর্দি ও কাশি নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আরো বলেন, মেজবাহ সোমবার বিকেলে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা ইউনিটি মৃত্যুবরণ করেছেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, এসআই মেজবাহ উদ্দিন করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু তার শরীরের অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তার নমুনা সংগহ করে বরিশাল পাঠিয়েছি কিন্তু এখনো প্রতিবেদন আসেনি। এখন জানতে পারলাম তিনি শ্বাসকষ্টের কারণে মারা গেছেন।

Sharing is caring!