করোনায় বন্ধের পথে নগরীর পার্লার ব্যবসা: পাশে নেই কেউ !

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে নেই বিয়ের ধুমধাম আয়োজন। গণজমায়েত করে জন্মদিন বা পার্টিও হচ্ছে না সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে। তাই দুর্দিন চলছে বরিশাল নগরীর পার্লার ব্যবসায়। দীর্ঘ লকডাউন কাটিয়ে পার্লার খুললেও নেই সাজবিলাসী নারীদের আনাগোনা। এক ঈদ কাটিয়ে আরেক ঈদ দরজায় কড়া নাড়লেও বেকার সময় কাটাচ্ছেন বিউটিশিয়ানরা। ফলে উপার্জন বন্ধ থাকায় স্বল্প পুঁজি নিয়ে নারী সৌন্দর্যের পার্লার ব্যবসায় মনোনিবেশ করা নারী উদ্যোক্তাদের পথে বসার উপক্রম ঘটেছে।

কেননা পার্লার ব্যবসায় মন্দা ফিরলেও খরচ কমেনি তাদের। বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন ও ঘর ভাড়া দিতে হচ্ছে নিয়মিতই। অথচ এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ায়নি সরকারি-বেসরকারি কোন সংস্থা। বাড়িয়ে দেয়নি সহায়তার হাত। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করতে হচ্ছে পার্লার ব্যবসায়ীদের। অনেকেই আবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পেশা পরিবর্তনের। দেশের চরম এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারি সহায়তাই এ পার্লার শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পারে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ‘নগরীর আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে ছোট বড় পার্লার ব্যবসা। কেউ নিজস্ব আবার কেউ ভাড়া করা ঘরে খুলে বসেছেন নারী সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার এ প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে নারী সৌন্দর্যের এই পার্লার ব্যবসায় নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণই বেশি। এনজিও কিংবা ব্যাংক ঋণ নিয়ে তারা সাধ্যের মধ্যে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়েছেন নিজেদের এ ক্ষুদ্র ব্যবসা। এ নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনাও করেছেন অনেকে।

তবে বৈশ্বিক মহামারি করোনা তাদের সেই স্বপ্নকে ভেঙে দিয়েছে। করোনা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ন্যায় বন্ধ রাখা হয় বরিশাল নগরীর পার্লারগুলোও। সরকারি নিয়ম মেনেই দীর্ঘ সময় পরে আবার শুরু করা হয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম। কিন্তু আগের মতো গ্রাহক পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিষ্ঠান খুললেও সকাল-বিকাল অলস সময় পার করতে হচ্ছে কর্মীদের।

সরেজমিনে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন ছোট-বড় পার্লার ঘুরে দেখাগেছে, ব্যবসায়ী এবং বিউটিশিয়ানদের দুরবস্থার করুণ চিত্র। আলাপকালে নগরীর বটতলা এলাকার দি মুন এর বিউটিশিয়ানরা জানিয়েছেন, লকডাউনের কারণে পার্লার বন্ধ থাকায় অনেক লোকসান হয়েছে। দীর্ঘ দিন পরে পার্লার খুললেও মেয়েরা আসছেন না। তার উপর এখন বিবাহ কিংবা জমকালো পার্টিও হচ্ছে না। তাই পার্লারেও কাজ হচ্ছে না।

নগরীর সদর রোডে অবস্থিত ওমেন্স বিউটি পার্লারের বিউটিশিয়ানরা জানিয়েছেন, ‘কাস্টমার না আসলেও প্রতিদিন পূর্বের নিয়মেই পার্লার খোলা রাখা হচ্ছে। তাই কাজ না হলেও মাস শেষে ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল দিতেই হচ্ছে। এখন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে পার্লার ব্যবসা টিকিয়ে রাখাটাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত প্রায় চার মাস ধরে এভাবে চললেও কোন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন নগরীর অধিকাংশ পার্লার ব্যবসায়ী।

অপরদিকে নগরীর কাটপট্টি রোডের চন্দ্রমুখী বিউটি পার্লার মালিক জানিয়েছেন, ‘কাজ না হলেও ব্যয় নিয়মিতই হচ্ছে। তবে আমার জানামতে কোন পার্লার মালিক কিংবা বিউটিশিয়ানরা কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাননি। এই মুহূর্তে ব্যবসায়ীরা সরকারি সহায়তা না পেলে অনেকের পার্লার ব্যবসাই গুটিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংগঠন নেই। ইতিপূর্বে সংগঠন করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু অনেকের কাছ থেকে এ ব্যাপারে সাড়া পাইনি। তাই শেষ পর্যন্ত সংগঠন করা হয়নি। সংগঠন থাকলে ওই সংগঠনের ব্যানারে যেসব ব্যবসায়ী বা বিউটিশিয়ান দুরবস্থায় আছেন তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করা যেতো।
নগরীর বগুড়া রোডের কৃষ্ণচূড়া বিউটি পার্লারের পরিচালক ডা. বনলতা মুর্শিদা বলেন, ‘করোনার মধ্যে পার্লার কার্যক্রম চালু রাখার জন্য আমরা সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি। পার্লার কর্মীদের জন্য পিপিই, মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ সকল ধরনের সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা করে রেখেছি। তাছাড়া সাজসজ্জার জন্য যারা আসবে তাদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সকল আয়োজন থাকা সত্ত্বেও পার্লারে ক্রেতা আসছে না। যার ফলে আয় উপার্যনের পথ বন্ধ হওয়ার পর্যায়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা থেকে সহায়তা পেলে পার্লার ব্যবসায়ীরা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে মনে করেন এই বিউটিশিয়ান।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, ‘স্বল্প ও ক্ষুদ্র আয়ের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। এই সহায়তা পাবার জন্য যথাযথ নিয়মে আবেদন করতে হবে। আবেদন পর্যালোচনা করে যারা সহায়তা পাবার যোগ্য তাদের পাশে থাকবে জেলা প্রশাসন।

Sharing is caring!