বঙ্গবন্ধু’র ভাস্কর্য নিয়ে এতো বিরোধিতা কেন-প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম- এমপি বলেছেন, ‘পৃথিবীর সব মুসলিম দেশেই ভাস্কর্য আছে। পাকিস্তানের বেনজীর ভূট্টো বিশাল একটা ছবিতে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভাস্কর্য আছে। পাকিস্তান তো কট্টোর পন্থী ইসলামিক দেশ। তাহলে আমাদের দেশে বঙ্গবন্ধু’র ভাস্কর্য নিয়ে এতো বিরোধিতা কেন?

আমি মনে করি, আমরা যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, মিথ্যা না বলি, চুরি না করলে আল্লাহ আমাদের দোযখ থেকে বাঁচিয়ে নিয়ে যাবেন। আর আমি যদি নামাজ পড়ে মিথ্যা বলি, একজনের পেছনে আরেকজন লেগে থাকি, তাহলে যতোই নামাজ পড়ে কপালে দাগ ফেলি তাতে কাজ হবে না।

শনিবার দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহনে ‘চন্দ্রমোহন দাখিল মাদ্রাসা’র ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও চন্দ্রমোহন ৬৯ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’র নতুন ভবনের উদ্বোধন এবং কালাবদর ও আড়িয়াল খাঁ নদী’র ভাঙন এলাকা পরিদর্শনকালে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় তিনি প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলেই অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন হয়। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে আমরা পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি নিয়ে ঢাকায় যাবো, এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এই পদ্মাসেতু নিয়ে দুর্নীতির কথা বলে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু তা প্রমাণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমাদের টাকা দিয়ে পদ্মাসেতু বানাবো এবং তিনি সেটা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। এখন বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের সাথে চিন্তাভাবনা করে কথা বলে। তারা আমাদের প্রকল্পের জন্য বলে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগে একটি প্রশ্ন ছিল ‘কোন জেলায় রেল নেই’ ? উত্তর ছিলো বরিশাল। কিন্তু পদ্মা সেতুর কারণে সেই প্রশ্নও আর কেউ করতে পারবে না। আমাদের এখানে রেল চলবে। বরিশাল থেকে ট্রেনে চেপে ঢাকায় যাবো।

তিনি বলেন, ‘আজ পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর হচ্ছে, বিদেশীরা জাহাজ নোঙর করবে এখানে। বিভাগীয় শহর বরিশালেও বিদেশীরা আসবে। বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি হবে। সেসব জায়গায় আমাদের ছেলে-মেয়েদের চাকরি হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই দক্ষিণাঞ্চলসহ গোটা দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। দশ বছর আগে বাংলাদেশের টাকা-পয়সা ছিলো না। কিন্তু এখন আমাদের ৪২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক রিজার্ভ রয়েছে। যা আগে ছিলো মাত্র ৩-৪ বিলিয়ন। তাই প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। কেননা তার বিকল্প আর কেউ নাই।

করোনার দ্বিতীয় ওয়েভের মধ্যে সবাইকে সুরক্ষিত থাকার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, ‘করোনার সময়ে প্রধানমন্ত্রী দু’হাতে প্রণোদনা দিয়েছেন, যাতে খেটে খাওয়া মানুষগুলো তাদের পরিবার নিয়ে দু’বেলা খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। আর এটা সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী লাভ করায়।

বরিশালকে আধুনিকায়নের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি টি-আর, কাবিখার জন্য সুপারিশ করিনাই। মন্ত্রণালয়ে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকার টেন্ডার দিয়েছি। কিন্তু কেউ বলতে পারবে না আমি টাকা খেয়েছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি মারা গেলে সাড়ে তিন হাত মাটিতেই আমাকে যেতে হবে। টাকা নিয়ে তো আমি কবরে যাবো না। আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যাতে বরিশাল শহর ও সদর উপজেলা একই তালে সমৃদ্ধ এবং সুন্দর করা যায়। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। আশাকরি আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে অনেক পরিবর্তন হবে বরিশালে।

বরিশালের যেসব ইউনিয়নগুলো রয়েছে সেগুলো যাতে উন্নত হয় এবং রাস্তাঘাট, স্কুল-মাদ্রাসা বানাতে পারি সে জন্য আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছি। ইতিমধ্যে বরিশাল সদর উপজেলার ৬৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ হয়েছে। আরও ৪০টি বিদ্যালয়ের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এরবাইরেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নেয়া নানা প্রকল্প এবং উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

দিনভর প্রতীমন্ত্রীর কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল উদ্দিন, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এস.এম মতিউর রহমান প্রমুখ।