করোনার মধ্যেও থেমে থাকেনি বরিশাল শিক্ষক সমিতির বহুমাত্রিক কার্যক্রম

প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ::

বরিশালের শিক্ষক আন্দোলনের সূতিকাগার বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, বরিশাল আঞ্চলিক শাখা। এক সময় এই সংগঠনের কার্যালয় ছিল বি.এম. স্কুল রোডের দোতলা টিনের ঘরে। পরবর্তী সময় নিজস্ব তহবিল থেকে ফকিরবাড়ি রোডে জায়গা ক্রয় করে বহুতল ভবন নির্মাণের পর আঞ্চলিক কার্যালয় স্থানান্তর হয়। সংগঠনের এই আঞ্চলিক কার্যালয়- শিক্ষক ভবন বরিশাল বিভাগ তো বটেই দেশের সর্ব অঞ্চলেই তা পরিচিত। শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সততা, স্বাবলম্বীতা এবং ঐক্যের প্রতীক এই ভবন।

 

সারা বছর ধরে চলে এই সংগঠনের তৎপরতা। উদ্দীপনায় ভরা একদল নেতাকর্মী এই সংগঠনকে সজীব ও সক্রিয় রাখতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষক আন্দোলনের পাশাপাশি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বিকাশ, অসচ্ছল ও অসুস্থ শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সহায়তাসহ বহুবিধ কাজ চালিয়ে আসছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী এই শিক্ষক সংগঠনটি।

 

এমনকি করোনাকালীন সময়ে বরিশাল সদরের নন এম.পি.ও ভুক্ত বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছে। বরিশালের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান রাখা বিভিন্ন সক্রিয় সংগঠনগুলোর সাথে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বরিশাল আঞ্চলিক শাখার পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। এছাড়া করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিরোধমূলক প্রচার কার্য শুরু হয়। একই সাথে প্রশাসনের সংগে সহযোগিতা বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের বিপর্যস্ত শিক্ষা জীবন পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম ও অব্যাহত রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এই সংগঠনের এক সময়ের প্রধান কা-ারী মরহুম এম.এ. গফুরের নেতৃত্বে সংগঠনটি গতিশীল হয়ে ওঠে। তাঁর মানবদরদী জীবনাদর্শ অনুসরণ করে এই সংগঠনের কার্যক্রম অনুসৃত হয়। শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষক সমাজ এই সমাজেরই অংশ। সমাজের প্রতিটি অংশের সাথে ওতপ্রোত সম্পর্ক বজায় রেখেই মরহুম এম.এ. গফুর চলেছেন।
৩০ নভেম্বর মানব দরদী সব্যসাচী এই কর্মবীরের ১৯তম মৃত্যু দিবস। মৃত্যু বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে চলছে এই সংগঠনের মাসব্যাপী বহুমাত্রিক কর্মসূচি। ১ নভেম্বর মরহুমের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য প্রদান এবং কালো ব্যাজ ধারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে কর্মসূচি উদ্যাপন।

 

পর্যায়ক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আয়োজন করা হয়েছে প্রতিযোগিতামূলক প্রবন্ধ লিখন, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও সংগীত। চিত্রাঙ্কন ও প্রবন্ধ রচনা হাতে হাতে আঞ্চলিক কার্যালয়ে জমা দেওয়া যাবে। কিন্তু সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা হবে অন্লাইনে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত কর্মসূচি বিদ্যালয়সমূহে প্রেরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বহুরঙে ছাপা পোস্টারে প্রতিযোগিতার বিষয়সূচি সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে। সুবিধাজনক সময়ে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারীদের পুরস্কার প্রদান করা হবে।

 

৩০ নভেম্বর সমিতি গৃহে কোরআন খতমসহ মরহুমের কবরে পুষ্পমাল্য প্রদান করা হবে। এর পূর্বে সমিতির আঞ্চলিক কার্যালয় শিক্ষক ভবনে ২৮ নভেম্বর শনিবার পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান। এতে বরিশালের মানুষের জন্য ও মানুষের পক্ষে কাজ করা ও কথা বলা কয়েকটি সংগঠনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রতিদিন সমিতি গৃহে নেতৃবৃন্দ পর্যালোচনা সভায় মিলিত হচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।