করোনার বিরুদ্ধে ৮০ শতাংশ সফল সেই ব্রিটিশ ভ্যাকসিন!

প্রকাশিত: 3:34 AM, April 25, 2020

ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ইতোমধ্যে মানবদেহে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করেছে। এই প্রতিষেধকে সাফল্যের সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ বলে দাবি করেছেন গবেষণা দলের চিফ ইনভেস্টিগেটর পোলার্ড।

মরণঘাতী এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত জানুয়ারি থেকে অক্সফোর্ডের এই দলটি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুইজনকে তাদের উদ্ভাবিত প্রতিষেধক দেয়াও হয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ৬০০ জনের ওপর এই ভ্যাকসিনের প্রভাব বিবেচনা করা হবে।

জানা যায়, গবেষণার জন্য দুটি দল তৈরি করা হয়েছে। একটি দলকে দেয়া হবে অক্সফোর্ড গবেষকদের ভ্যাকসিন এবং অন্যদলকে দেয়া হবে মেনিনজাইটিসের। কোন ব্যক্তিকে কী প্রতিষেধক দেয়া হচ্ছে তা প্রকাশ করা হবে না। তবে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

দ্য ডেইলি মেইলের বরাতে জানা যায়, বিশ্বজুড়ে অন্তত ৭০টিরও বেশি টিকা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। টিকা তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হচ্ছে মানবদেহে প্রয়োগ। ইতোমধ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলকভাবে মানুষের দেহে প্রয়োগ করা হয়েছে। সে তালিকায় যুক্ত হয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের দলটি।

দলের প্রধান হিল বলেন, আমরা শিম্পাঞ্জির দেহ থেকে টিকাটি তৈরি করার চেষ্টায় আছি। এ জন্য আমরা প্রথমে শিম্পাঞ্জির দেহে ভাইরাসটি প্রবেশ করাই। এরপর প্রাণীটির দেহে ভাইরাস থেকে বাঁচতে একটি এন্টিবডি তৈরি হয়। সেই এন্টিবডি দিয়েই আমরা ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, টিকাটি তৈরিতে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ ও জেনার ইন্সটিটিউট যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা, আগামী সেপ্টেম্বরেই এটি মানুষের দেহে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যাবে।

তবে সর্বসাধারণের জন্য এটি বাজারে আসতে আরো সময় লাগবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দলের অন্যান্য গবেষকরা দাবি করছেন, প্রতিষেধকটি মানবদেহের জন্য বেশ নিরাপদ। এতে বিদ্যমান প্রোটিন দেহে প্রবেশের পরেই দেহ থেকে একটি এন্টিবডি তৈরি হয় যার মাধ্যমে ভাইরাসটি ধ্বংস হয়ে যায়।

গবেষণা দলের চিফ ইনভেস্টিগেটর পোলার্ড বলেন, সব পরীক্ষা ঠিক মতো হলে আগামী সেপ্টেম্বরে এই প্রতিষেধকের অন্তত ১০ লাখ ডোজ তৈরি হয়ে যাবে। ব্রিটেনের তিনটি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের মতো বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও গবেষণা চলছে। তবে আমার বিশ্বাস, সবার আগে সুখবরটি আমাদের এখান থেকেই আসবে। কারণ এই ভ্যাকসিনে ৮০ শতাংশ সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

Share Button