করোনার নতুন ধরন পাওয়া গেছে দেশেও!


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৫, ২০২০

বার্তা ডেস্ক :: বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) বিজ্ঞানীরা জানান, করোনা ভাইরাসের নতুন একটি প্রকৃতি বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছে, যেটির সঙ্গে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে পাওয়া করোনা ভাইরাসের ধরনটির মিল রয়েছে। তবে করোনার নতুন এই ধরনটি দ্রুত ছড়ালেও প্রাণঘাতী নয়। দেশে আড়াই মাস আগে শনাক্ত হলেও এখনো পর্যন্ত ক্ষতির কোনো প্রমাণ পায়নি বিজ্ঞানীরা।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাসের নতুন যে ধরনটি পাওয়া গেছে, সেটি আগের ধরনের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি গতিতে ছড়ায় বলে জানানো হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাসের ‘অত্যন্ত সংক্রামক’ ঐ নতুন ধরনটির সন্ধান মেলে, যা এখন লন্ডনসহ ইংল্যান্ডের বেশ কিছু এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভাইরাসের ঐ ভ্যারিয়েন্ট ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশে পৌঁছে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় প্রতিবেশীসহ ৪০টির বেশি দেশ যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) জীবতাত্ত্বিক গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম খান বলেন, গত নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান এবং শিল্প গবেষণা পরিষদ করোনা ভাইরাসের পাঁচটি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে। বিশ্বে মোট সাতটি জিনোম সিকোয়েন্সিং হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশে পাঁচটি। তিনি বলেন, পরীক্ষার মাধ্যমে আড়াই মাস আগে করোনার নতুন ধরনে শনাক্ত পাঁচ জনকে পাওয়া গিয়েছিল। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। কিন্তু দ্রুত ছড়ানো ছাড়া ক্ষতির কোনো কিছু দেখিনি।

তিনি বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝিতে যুক্তরাজ্য করোনার জিনগত পরিবর্তনের বিষয়টি বলে। পরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনা ভাইরাসের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন ধরনের করোনার মিল রয়েছে।

ড. সেলিম খান বলেন, করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন কিভাবে দেশে এলো তা জানার জন্য স্যাম্পল দেওয়া পাঁচ জনের বিষয়ে সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তারা লন্ডন গিয়েছিল কি না, কিংবা লন্ডন থেকে আসা ব্যক্তিদের সংস্পর্শে গিয়েছিল কি না, সার্বিক বিষয়। করোনা ভাইরাসের নতুন ধরনে আক্রান্ত কি না, সেজন্য আরো ৭০০ পরীক্ষা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য বিদেশ থেকে কিট আনা হচ্ছে।

করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বলেন, করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা তীব্রতর। তবে ক্ষতির কোনো প্রমাণ মেলেনি। তাই সঠিক প্রমাণ পাওয়ার আগে জনমনে প্রভাব বিস্তার করে এমন কিছু নিয়ে আগাম উপসংহার টানা ঠিক হবে না। আরো সতর্ক ও তীক্ষ পর্যবেক্ষণ করে উপসংহার টানা উচিত।

তিনি বলেন, করোনার বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেশে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের হার যেহেতু একই অবস্থানে আছে তাই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, করোনা ভাইরাসের নতুন ধরনের বিষয়টি যুক্তরাজ্য আগে থেকেই পেয়েছে। তারা করোনার জিনগত পরিবর্তন নিয়ে নানা গবেষণা করেছে।

তিনি বলেন, আইইডিসিআরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। এ নিয়ে বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে করোনা ভাইরাস আগের মতো একই অবস্থায় আছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনা ভাইরাসের নতুন ধরনের বিষয়টি আমাদের নলেজে এসেছে। তবে বিসিএসআইআর স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করেনি। তিনি বলেন, করোনার নতুন ধরন নিয়ে আরো খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আইইডিসিআরে কয়েকটি স্যাম্পল পরীক্ষা করে দেখা হবে। বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।