করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রোধে তৎপর প্রশাসন, বরিশাল জেলাজুড়ে জিরো টলারেন্স

প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২০

শফিক মুন্সি ::

বরিশাল জেলায় করোনা সংক্রমণ রুখতে নানাবিধ তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করোনার প্রকোপ রুখতে দিনভর চালানো হচ্ছে অভিযান। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে জোরেশোরে। মঙ্গলবার ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ প্রচারণা বাস্তবায়ন ও স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালনে ১২ টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১২৫ জন ব্যক্তিকে ২৬ হাজার দুইশ পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বরিশাল জেলায় কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য দ্বিতীয় সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম অজিয়র রহমান জেলার সর্বত্র স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং তা বাস্তবায়নে ব্যাপক উদ্যোগ নেন। তার অংশ হিসাবে  মঙ্গলবার বরিশাল মহানগরসহ সমগ্র জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত বরিশাল নগরীর সদর হাসপাতাল রোড, নতুন বাজার, বিএম কলেজ রোড এবং নথুল্লাবাদ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলী সুজা এর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে বাজারে আগত লোকদের মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিতকরণ ও সামাজিক দূরত্ব রেখে চলাফেরা এবং মাস্ক ব্যতীত কেউ যাতে কোন ধরনের সেবা না পায় সেটি নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রচারপত্র, ফেস্টুন এবং ফ্রি মাস্ক বিতরণ করা হয়। অধিকন্তু মাস্ক না পরে ঘোরাফেরা করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি লংঘন করায় ২৩ জন পথচারীকে পাঁচ হাজার চারশো টাকা জরিমানা করা হয়। উক্ত অভিযানে আইন শৃংখলা রক্ষায় র‌্যাব-৮ এর একটি টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

বরিশাল মহানগরে অপর একটি অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এ সময় ৩৪ ব্যক্তিকে মোট তিন হাজার সাতশো টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এসময় বিভিন্ন দোকানে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ ব্যানার বিতরণ করা হয়। অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম।

স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরতে জনসাধারণকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে পুলিশ লাইন ও রুপাতলী এলাকায় মোবাইল কোর্ট অভিযান অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আতাউর রাব্বী। এসময় বিভিন্ন দোকানে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ ব্যানার বিতরণ করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এ সময় ৫ ব্যক্তিকে মোট দুই হাজার একশ’ টাকা অর্থদ- দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম।

বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের শিলন্দিয়া এলাকায় করোনা ভাইরাস মহামারী চলাকালীন স্বাস্থ্য বিধি পরিপালন ও মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমীনুল ইসলাম। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালীন বাটাজোড়-শিলন্দিয়া সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন করার লক্ষ্যে সচেতন করা হয় এবং যারা মাস্ক পরিধান করেনি তাদেরকে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী তিন হাজার একশ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

মোবাইল কোর্ট চলাকালীন অর্থদ-প্রাপ্ত দশজন ব্যক্তিদের উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তৈরিকৃত মাস্ক পরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারী চলাকালীন বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নিয়মিত মাস্ক পরিধান করা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়।
মোবাইল কোর্টকে আইনানুগ সহযোগিতা করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের বিমানবন্দর থানার এস. আই মোঃ সালাউদ্দিনসহ পুলিশ ফোর্স। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে করোনাভাইরাস এর বিস্তার রোধকল্পে মাস্ক ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মানা ও জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুল হাশেম এর নেতৃত্বে আগৈলঝাড়া উপজেলার অন্তর্গত আগৈলঝাড়া বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৬ জনকে ৬ টি মামলায় এক হাজার চারশো টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

মেহেন্দিগঞ্জে মাস্ক পরতে জনসাধারণকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিজুস চন্দ্র দে এর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৭ জন ব্যক্তিকে মোট এক হাজার চারশো টাকা অর্থদ- দেওয়া হয়। আদালত পরিচালনাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম।

হিজলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাস্ক পরিধানে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ এর নেতৃত্ব মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানে ১০ জনকে দুই হাজার টাকা অর্থ দণ্ড প্রদান করা হয়।

বাকেরগঞ্জে করোনাভাইরাস এর বিস্তার রোধকল্পে মাস্ক ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি মানা ও জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকাল ৩ টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার বাসস্ট্যান্ড, কালিগঞ্জ বাজার, পৌর মার্কেটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.তরিকুল ইসলাম এর নেতৃত্ব মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে মাস্ক না পরার জন্য ৬ জনকে এক হাজার দুইশ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

 

গৌরনদীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাস্ক পরিধানে উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারিহা তানজিন এর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানে তিন জনকে ছয়শো টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি জনগণের মাঝে ফ্রি মাস্ক বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে উজিরপুরের হারতা বাজারে সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জয়দেব চক্রবর্তী এর নেতৃত্বে মাস্ক পরিধানের উপর সচেতনতামূলক অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এসময় দুজনকে মোট তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এছাড়া জনগণের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়।

বানারীপাড়ায় মাস্ক পরতে জনসাধারণকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মফিজুর রহমান এর নেতৃত্বে মাস্ক পরিধানের উপর সচেতনতামূলক অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। উক্ত অভিযানে ১৯ জনকে দুই হাজার তিনশত পঞ্চাশ টাকা অর্থ দণ্ড প্রদান করা হয়।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম অজিয়র রহমান জানান, করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে জেলা প্রশাসনের। সাধারণ মানুষের সচেতনতাই আসন্ন বিপর্যয় থেকে সকলকে রক্ষা করতে পারে। সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।