করোনার টিকা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে বরিশালের প্রশাসন, সক্রিয় হবার আহবান

প্রকাশিত: ১১:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

*ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে পারে টিকা প্রয়োগ
*এখনো নির্ধারণ হয় নি কর্ম পরিকল্পনা
*টিকার ব্যাপারে আগ্রহী করতে হবে মানুষকে

 

শফিক মুন্সি ॥ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে প্রয়োগ শুরু হতে পারে করোনা ভাইরাসের টিকা। এখন পর্যন্ত এমনটাই চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এই টিকা দক্ষিণের বরিশাল অঞ্চলের মানুষ কিভাবে পাবেন সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। এমনকি টিকা কারা পাবেন এবং কারা দেবেন, কোথায় নির্ধারিত হবে টিকাদান কেন্দ্র সে ব্যাপারে ধোঁয়াশাপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। তবে এখনই টিকার ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে সচেতন হবার আহবান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। এ ব্যাপারে নানা পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে টিকা প্রয়োগ শুরু হবে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র টিকা সংরক্ষণের নির্দেশনা ছাড়া অন্য কোন কাগজ তাদের হাতে এসে পৌঁছায় নি। কারা টিকা দেবেন, কারা টিকা নেবেন, কোথায় টিকা প্রয়োগ কেন্দ্র নির্ধারণ করা হবে সেসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে বলার সুযোগ সৃষ্টি হয় নি।

তবে সেখানকার আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি (জানুয়ারি) মাসের শেষের দিকে অনলাইনে নিবন্ধন শুরু হবে টিকা গ্রহীতাদের। আবার টিকা প্রাপ্তিতে কারা অগ্রাধিকার পাবেন সে বিষয়ে একটি তালিকা জাতীয় ভাবে প্রস্তুত হচ্ছে। নিবন্ধন আর অগ্রাধিকারের তালিকা অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা – উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সদর হাসপাতাল ও শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল টিকা কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হবে।

কারা টিকা প্রদান করবেন সে ব্যাপারে অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, এখানকার ছয়টি জেলার জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স, কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা, মাঠের স্বাস্থ্যকর্মী এবং শিক্ষার্থী নার্সদের সমন্বয়ে কেন্দ্র ভিত্তিক দল গঠন করা হবে। এসব দলকে দ্রুতই প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হবে। তবে কবে প্রশিক্ষণ শুরু হবে কিংবা কোথায় কোথায় টিকাদান কেন্দ্র নির্ধারণ করা হচ্ছে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি কেউ।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন বলেন,‘ যাদের করোনায় সংক্রমিত হবার ঝুঁকি বেশি তাদের প্রাধান্য দিয়ে টিকা প্রাপ্তির তালিকা করা উচিত। এর ব্যত্যয় ঘটলে সামাজিকভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে। আমার জানামতে স্থানীয় সরকার করোনার টিকা প্রদান বিষয়ে দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম এখনো শুরু করে নি। ফেব্রুয়ারিতে টিকার প্রয়োগ শুরু করতে হলে এখন থেকেই উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন’।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সমাজবিজ্ঞানী ড. মোঃ ছাদেকুল আরেফিন উল্লেখ করেন, ‘হাম-রুবেলা সহ অন্যান্য টিকা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সফলতার ইতিহাস রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় করোনার টিকা কার্যক্রম সফল করতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না বলে আশা করছি। সকলে যেন টিকার ব্যাপারে আগ্রহী হয় সেজন্য পদক্ষেপ জরুরী। এক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক – সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় কিনা সে ব্যাপারে ভাবা উচিত এখন থেকে’।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের একজন পরিচালক ও তিনজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত সোমবার পর্যন্ত তাদের কাছে শুধুমাত্র টিকা সংরক্ষণ বিষয়ক নির্দেশনা এসেছে। সে অনুযায়ী বিভাগের কোথায় কোথায় টিকা সংরক্ষণ ও প্রদান করা হবে সেগুলো ঠিক করছেন তারা। আর করোনার সম্মুখযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দিয়ে করোনার টিকা প্রদান করার নিশ্চয়তা দিলেন বরিশালের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। তিনি বলেন,‘জেলায় যেসব পেশার মানুষ করোনার সম্মুখ সমরে আছেন তাদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সেই অনুযায়ী টিকা প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে প্রদান শুরু হবে’।

প্রসংগত, অক্সফোর্ড ও আস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের টিকা ‘কোভিশিল্ড’ প্রথমে আসবে দেশে। এজন্য টিকাটির উৎপাদনকারী ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশের। টিকার এদেশীয় পরিবেশক বেক্সিমকো ফার্মা ছয় মাসে মোট তিনকোটি ডোজ টিকা আমদানি করবে। টিকা গ্রহণকারী প্রত্যেককে দুই ডোজ করে টিকা নিতে হবে। এছাড়াও করোনার টিকা সরবরাহের বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘কোভেক্স’ থেকে বিনামূল্যে টিকা পাবার সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। এসব টিকা গ্রহণের দাবিদার হতে পারেন দক্ষিণের প্রায় ১ কোটি মানুষ।