কমেনি নগরীর জলাবদ্ধতা,বেড়েছে ভোগান্তি : কমেছে নদ নদীর বিপদসীমার পানি

প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

টানা তিনদিন যাবত বরিশাল নগরীর কোল ঘেঁষা কীর্তনখোলা সহ জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত দুদিন যাবত এসব নদ নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ, তীব্র বাতাস এবং পূর্ণিমার প্রভাবে নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পায়। যাতে তলিয়ে যায় বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) এলাকা সহ জেলার বিভিন্ন নদী পার্শ্ববর্তী এলাকা। জোয়ারের পানির তীব্রতা কমা শুরু করলেও কমে নি বিসিসি’র আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা। আর এর পিছনে অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য আটকে নগরীর খালগুলোর বেহাল দশাকে দুষছেন নগরবাসী।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড, নবগ্রাম রোড, রূপাতলী হাউজিং, অক্সফোর্ড মিশন রোড, আমানতগঞ্জ, পলাশপুর সহ বেশ কটি এলাকায় পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এসব অঞ্চলের আশেপাশের খাল এবং ড্রেনগুলোতে বর্জ্য আটকে থাকার কারণে ভাটির টানে পানি বেরিয়ে যেতে বাধা সৃষ্টি হয়। যে কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষে জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা হাফিজ স্বাধীন জানান, এলাকার ড্রেনগুলো গত তিনদিন যাবত অকার্যকর হয়ে আছে। দূষিত পানির জলাবদ্ধতায় এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেন আটকে থাকায় ঘরের সামনে আটকে থাকা জোয়ারের পানিও নামতে পারছে না।

মূল নগরীর আরো একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সক্রিয় করা ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরে প্রবাহিত খালগুলো পানি প্রবাহের উপযুক্ত না করা গেলে পানি জমে নগরীর নিচু অঞ্চলের নাগরিকেরা আরো ভোগান্তিতে পড়বেন। জমে থাকা পানির ফলে বাড়তে পারে মশার প্রকোপ। এতে করে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগের আক্রমণ শুরু হতে পারে।

গতকাল রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, বরিশাল নগরীর পার্শ্ববর্তী কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপদ সীমা (২৫৫ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগের দুদিন বিপদ সীমা অতিক্রম করে যথাক্রমে ২২ সেন্টিমিটার ও ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। ভোলার দৌলতখান পয়েন্টে সুরমা – মেঘনা নদীর পানি বিপদ সীমা (৩৪১ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগের দিন সেখানে বিপদ সীমা অতিক্রম করে ৭৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।

এছাড়া পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের পায়রা-বুড়িশ্বর নদীর পানি বিপদসীমা (২৮১ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগের দিন সেখানে বিপদ সীমা অতিক্রম করে ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। ঝালকাঠির বিষখালী নদীর পানি গত দুদিন যাবত বিপদ সীমার (২০৮ সেন্টিমিটার) ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিষখালী নদীর বরগুনা পয়েন্টের পানি বিপদসীমার (২৮৫ সেন্টিমিটার) ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এর আগের দিন পানি বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল দুই সেন্টিমিটার। পাথরঘাটা পয়েন্টে পানি আগের দিনের চেয়ে এক সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার (২৮৫ সেন্টিমিটার) ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত দুদিন যাবত পিরোজপুরের বলেশ্বর নদের পানি বিপদ সীমা অতিক্রম করে (২৬৮ সেন্টিমিটার) তিন সেন্টিমিটার এপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাউবো।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশালের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাসুম জানান, পূর্ণিমার প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ার হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বিদপসীমা অতিক্রম করেছে। তবে বর্তমানে প্রতিদিন ধীরে ধীরে পানি কমছে। আজ (শনিবার) পানি নেমে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তবে বৃষ্টিপাত বাড়লে জলমগ্নতা বাড়তে পারে বলে আশংকা তাঁর।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও হালকা বৃষ্টিপাতের কারণে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নদী বন্দরগুলোতে এক নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত জারি রাখা হয়েছে।
আর বরিশাল নগরীর ড্রেনেজ এবং খালগুলোতে বর্জ্য আটকে থাকা ও সংস্কারের ব্যাপারে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় বিসিসি’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শাখার প্রধান ডাঃ রবিউল ইসলামের সঙ্গে। ইসরাইল হোসেন জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য দিতে পারবেন না। আর ডাঃ রবিউল ইসলামকে কয়েকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায় নি।

Sharing is caring!