এ কেমন প্রধান শিক্ষক!


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্কাউট ড্রেসের টাকা দিতে না পারায় ১০ শিশু শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাদের পরীক্ষা গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিপুল চন্দ্র দাস। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাকাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ে সমাপনী পরীক্ষা চলছে। মঙ্গলবার বিকেলে গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃনালিনী তালুকদার স্কাউট ড্রেসের টাকা না দেয়ায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে তার কক্ষে ডেকে পাঠান।

শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গেলে আট শিক্ষার্থী স্কাউট ড্রেসের টাকা আগামী শনি ও রোববার পরিশোধ করবে জানালে তাদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেয়া হয়। এসময় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী পায়েল দে ও চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী চৈতী বিশ্বাসকে পরীক্ষা না দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ওই দুই ছাত্রী বাড়ি গিয়ে ঘটনা তাদের অভিভাবকদের জানালে অভিভাবকরা স্কুলে এসে প্রতিবাদ করেন। বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়রা মুঠোফোনে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল হক তালুকদারকে জানান। ঘটনা জানতে পেরে প্রশিক্ষণে থাকা সিরাজুল হক তালুকদার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রিতীশ বিশ্বাসকে ঘটনাস্থলে পাঠান। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে প্রিতীশ বিশ্বাসকে নির্দেশ দেন।

এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্কুলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিপুল চন্দ্র দাস। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বের করে দেয়া শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়ে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়া দুই ছাত্রীর পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এসময় তিনি তদন্তসাপেক্ষ প্রধান শিক্ষকের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, ২২ বছর ধরে একই বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান শিক্ষক মৃনালিনী তালুকদার। তার খেয়াল খুশি মতো বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়। তার বিরুদ্ধে যেই কথা বলতে যায় তাকেই হেনস্তা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিপুল চন্দ্র দাস জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করা উচিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বদলির সুপারিশ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে রিপোর্ট দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মৃনালিনী তালুকদার জানান, বিভিন্ন ঝামেলার কারণে মাথা গরম ছিল। এ ধরনের কাজ করা উচিত হয়নি। ভুল হয়েছে স্বীকার করে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।