এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা

প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন আহমেদ এর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে নিহত শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজাউল করিম রেজা’র বাবা ইউনুস মুন্সি বাদী হয়ে বরিশাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে রেজা হত্যা মামলা তুলে নিতে নিহতের বাবা ও মামলার বাদীকে মারধরসহ হুমকি প্রদানের অভিযোগ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত আসামি এসআই মহিউদ্দিনকে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে চলতি বছরের গত ৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার মাদক দিয়ে ধরে নিয়ে শিক্ষনবিশ আইনজীবী রেজাউল করিম রেজাকে ডিবি কার্যালয়ে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে এসআই মহিউদ্দিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বাবা ইউনুস মুন্সি।

 

মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দায়েরকৃত দ্বিতীয় মামলাটিতে বাদী নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী হামিদ খান সড়কের বাসিন্দা ও সাগরদী বাজারের মাংস ব্যবসায়ী ইউনুস মুন্সি অভিযোগ করেছেন, ‘তার ছেলে রেজাউলকে জোর করে ধরে নিয়ে পুলিশ হেফাজতে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে রেজাউল পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেন।

এই ঘটনায় ইউনুস মুন্সি ছেলেকে হত্যার বিচার চেয়ে এসআই মহিউদ্দিনসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গত ৫ জানুয়ারি বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (এম.পি-০৪/২০২১) দায়ের করেন। এ কারণে আসামি এসআই মহিউদ্দিনসহ তার লোকেরা বাদী ও তার পরিবার-পরিজনকে পথে-ঘাটে বিভিন্নভাবে হয়রানীর চেষ্টা করেন। এমনকি মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন সময় বাদী ও তার পরিবারকে জীবন নাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে এসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

 

এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টায় বাদী ইউনুস মুন্সি সাগরদী আলিয়া মাদ্রাসার সামনে প্রধান সড়কের ওপর পৌঁছামাত্রই এসআই মহিউদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও দু’জন তাকে ঘিরে ফেলে চড়-থাপ্পড়সহ মারধর শুরু করেন। তার ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ‘এসআই মহিউদ্দিনসহ হামলাকারীরা চলে যাবার সময় বাদী ইউনুস মুন্সিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মামলা তুলে নিতে বলেন। না হলে বাদী এবং তার পরিবারকে সুযোগ বুঝে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সু-বিচার করার দাবি জানিয়েছেন বাদী ইউনুস মুন্সি।