এবার ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত ১১টি ওয়ার্ড কমিটি বাতিলের দাবি

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারি পলিটেকনিক ও ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের পরে এবার সদ্য ঘোষিত বরিশাল মহানগরীর ১১টি ওয়ার্ড ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নগরীর সদর রোডস্থ বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই ১১টি ওয়ার্ড ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

 

এসময় তারা নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি পুন:বিবেচনা ও সংশোধন করে সৎ, যোগ্য, ত্যাগী ও মেধাবী কর্মীদের নিয়ে পুনরায় কমিটি গঠনের দাবি জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন ছাত্রদল নেতা এ্যালেক্স তমাল সরকার। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি বহুল প্রতীক্ষিত ১,৩,৪,৫,৮,৯,১১,১৯,২১,২৬,২৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষিত হয়। যে কমিটিগুলোতে আদর্শিক, যোগ্য, মেধাবী ও ত্যাগী ছাত্রনেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। ১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিহাদ হাওলাদারকে বিগত দিনে কোন আন্দোলন সংগ্রামে দেখা যায়নি। এ কমিটির সদস্য সচিব এস.এম আরাফাত রহমানের থেকে বয়সে ৮-১০ বছরের ছোট হবেন আহ্বায়ক। তাছাড়া আহ্বায়ক জিহাদ হাওলাদার ৫ম শ্রেণি পাস করেছেন। আর সদস্য সচিব মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।

 

৩ নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক মোঃ আবু তাহের একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম আশিক সম্পূর্ণ অপরিচিত মুখ, ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। ৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ মাহিন ইসলাম মারুফ ছাত্রলীগের এজেন্ট। বিগত দিনে ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রমে তার সরব ভূমিকা ছিল। ৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ আশিক হাওলাদার রানা, সদস্য সচিব তারেক রহমান সম্রাটের চেয়ে একাডেমিক জুনিয়র। তিনিও বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন না।

 

৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসিফ সিকদার ও সদস্য সচিব তামিম হোসেন দু’জনই ছাত্রলীগের কর্মী বলে পরিচিত। ওয়ার্ডের ত্যাগী-নির্যাতিত, মেধাবী ছাত্রনেতাদের বঞ্চিত করে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতির নিজ ওয়ার্ড হওয়ার কারণে সে এই কমিটিতে হস্তক্ষেপ করে এবং ছাত্রলীগ এজেন্ট দ্বারা কমিটি গঠন করে। ৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহবায়ক সুজন খান একজন মাদকাসক্ত, তার ছাত্রত্ব নেই। আদৌ কোন একাডেমিক সার্টিফিকেট আছে কিনা তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।

 

১১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ আজাদ সরদারের পরিবার আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার বাবা, চাচা, চাচাতো ভাইসহ পরিবারের অনেকেই আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। সদস্য সচিব জাকারিয়া হাসান ১২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও তাকে ১১ নম্বরে পদ দেয়া হয়েছে। ১৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহবায়ক তারিকুল ইসলাম সবুজ ঢাকায় বসবাসরত একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। সদস্য সচিব নিলয় খান রানা ২ নম্বর ওয়ার্ডস্থ কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা।
২১ নং ওয়ার্ডে ছাত্রদলের আহবায়ক নোমান ছাত্রলীগ কর্মী বলে পরিচিত। ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়কদের চেয়ে বয়সে ছোট ও একাডেমিক জুনিয়র। ২৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নূরে আলম বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক। ২৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক পারভেজ হোসেন পাভেলও বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। তিনি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত।

সংবাদ সম্মেলনে অতি সত্ত্বর উক্ত বিতর্কিত কমিটিগুলো পুন:বিবেচনা ও সংশোধন করে সৎ, যোগ্য, ত্যাগী ও মেধাবী কর্মীদের নিয়ে পুণরায় কমিটি গঠনের জোর দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের মধ্যে রিপন সিকদার, হৃদয় রাজ, মোঃ সাব্বির শেখ, হামিদুল হাসান রাশিক, তারেক রহমান সম্রাট,জা কির তালুকদার, এস.এম আরাফাত রহমান, মোঃ মুন, মোঃ আমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সঠিক তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হলে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের বরিশাল বিভাগীয় টিম লিডার মাহমুদুল হাসান বাপ্পি।