একমাত্র ছেলে দীপকে হারিয়ে পাগল প্রায় মা


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পরিবারের একমাত্র সন্তান দীপ ঘোষ। সম্প্রতি কীর্তনখোলা নদীতে নৌকায় করে বন্ধুর জন্মদিন পালন করতে লাশ হয়ে ফেরে সে। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত দীপের বন্ধুকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। তবু থামছে না সন্তান হারা মায়ের স্বজন হারা বিলাপ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায় তিনি। সন্তানকে যারা এমনভাবে হত্যা করেছে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন দীপের মা এবং অসহায় বাবা।

নিহত দীপ নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার মিন্টু ঘোষের একমাত্র ছেলে। এ বছর সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক বিষয়ে ফেল করেছিল। তবে ওই বিষয়ে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল দীপ।
দীপের বাবা মিন্টু ঘোষের অভিযোগ করে বলেন, ‘জন্মদিন পালনের নামে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত শুধুমাত্র রিয়াদ হোসেন (১৭) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘যারা ঘটনার সময় উপস্থিত ছিল তাদের প্রত্যেকের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু রিয়াদ হোসেন ছাড়া বাকি কারোর নামই এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি। তাই এ হত্যা মামলায় ট্রলার চালক রিয়াজ, নিহতের বন্ধু বিজয়, রাহাদ, অন্তর, ইমনসহ অন্যান্যদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
জানাগেছে, ‘গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় রিয়াদ হোসেন এর জন্মদিন পালন করার জন্য দীপ ঘোষকে ডেকে নেয় তার বন্ধুরা। কীর্তনখোলা নদীতে নৌকায় করে জন্মদিন পালনের সময় দীপকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়। পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।

এই ঘটনায় দীপের বাবা মিন্টু ঘোষ বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। পরে জন্মদিনের ভিডিও ফুটেজ দেখে নগরীর আমানতগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজ রোডস্থ বাসা থেকে দীপের বন্ধু রিয়াদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পরে হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে রিয়াদকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এসময় রিয়াদ আদালতের কাছে ১৬৪ ধরায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুমান ওই সময় জানান, ‘রিয়াদ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। তার পরে সংসারের প্রয়োজনে হাসপাতাল রোডে একটি জুতার দোকানে চাকরি করতো। তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ডিসেম্বর ওই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ আমাদের হাতে আসে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় দীপকে কোলে তুলে নদীতে ফেলে দেয় রিয়াদ। রিয়াদ সাঁতার না জানায় সে আর বেঁচে ফিরতে পারেনি। নদীতে তলিয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে ডুবুরিরা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।