একটি বাঁধের অভাবে রাক্ষুসে আড়িয়াল খাঁ গিলে খাচ্ছে চরমোনাই

প্রকাশিত: ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের আটহাজার, ইছাগুড়া ও বুখাইনগর গ্রামের কোল ঘেঁষে বয়ে গেছে রাক্ষুসে আড়িয়াল খাঁ নদী। এরই মধ্যে গ্রামীণ জনপদের প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে আড়িয়াল খাঁর কড়াল গ্রাসে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে নদীর তীরবর্তী প্রায় আড়াইশত পরিবারের বসতবাড়ি। ভাঙনে নি:স্ব পরিবারগুলোর দিন কাটছে দুর্দশা আর হতাশায়। তার মধ্যে চলতি বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী মানুষের রাত কাটছে আতঙ্কে। “এই বুঝি রাক্ষুসে আড়িয়াল খাঁ গিলে খাচ্ছে ভিটা-মাটিসহ সর্বস্ব।” তাই ভাঙনের থেকে শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন আতঙ্কিত মানুষগুলো।

এ মুহূর্তে একটি বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি তুলেছেন ভাঙনকূলের মানুষেরা। এর মাধ্যমে বাপ-দাদার শেষ চিহ্ন বসত-ভিটাটুকু রক্ষায় মন্ত্রী-এমপি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ‘এরই মধ্যে ওই এলাকার প্রায় আড়াইশ পরিবারের বসতবাড়ি, মসজিদ, রাস্তাঘাট, গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। দিন যত যাচ্ছে ভাঙনের তীব্রতা আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

ভাঙনের চিত্র প্রত্যক্ষ করতে সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোয়ার হোসেন জুয়েলসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তলে ধরেন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে। তারা সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টিও কামনা করেন।

এ প্রসঙ্গে চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবুল খায়ের ইসহাক বলেন, ‘গত বছর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। তখনকার সময়ে তার প্রত্যক্ষ তদারকিতে জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) ফেলে ভাঙন এলাকা কিছুটা রক্ষার চেষ্টা করা হয়। এসময় তিনি স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন।

তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময় আমরা বাঁধটি নির্মাণের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডে যোগাযোগও করেছি। কিন্তুবাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি। আদৌ হবে কিনা সে বিষয়টিও নিশ্চিত করছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা শুধু আশার বাণীই শুনিয়ে যাচ্ছে। তাই ভাঙনকূলের মানুষের এই ক্রান্তিলগ্নে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এর দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক পুনরায় টেকসই বাঁধ নির্মাণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

তবে এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। যদিও ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণে নেওয়া প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে বলে দাবি করেছে পাউবো’র একটি দায়িত্বশীল সূত্র।