উৎপাদন মৌসুমে কৃষিপণ্য আমদানি নিষিদ্ধ হচ্ছে

প্রকাশিত: 2:47 PM, October 23, 2019

কৃষককে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কোনো কৃষিপণ্যের উৎপাদন মৌসুমে সেটি আমদানি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে দেশের উৎপাদিত শস্য, ফলমূল, শাকসবজি, মসলার বাজারজাতকরণে উৎপাদন ও আমদানির সামঞ্জস্যতা নির্ধারণ বিষয়ক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।কৃষি সচিব বলেন, ‘কৃষকরা উৎপাদন করে বাজারে যে পণ্য নিয়ে আসে, তখন বিদেশ থেকে সে পণ্য আমদানি হয়। সেই আমদানির ফলে আমাদের কৃষকরা অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষকরা ফসল উৎপাদন করে বাজারে নিয়ে আসে তখন দাম কম পায়। কারণ একই সঙ্গে সবাই একই পণ্য উৎপাদন করে, ফলে পণ্যের দাম কমে যায়।’

যখন বাজারে ফসলটা কিনতে যায় তখন তাকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এজন্য আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে এ রকম একটি অবস্থা তৈরি করতে যাচ্ছি- কৃষকের ঘরে যখন ফসল উৎপাদন হবে তখন আমাদের যেন আমদানিকারকরা বিদেশ থেকে একই ধরনের ফসল বা পণ্য বাংলাদেশে আমদানি না করেন।’

কোন মৌসুমে কৃষক কোন ফসল উৎপাদন করে বাজারে আনা হয়, সেই বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি পত্র দেয়া হবে জানিয়ে নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘তখন যেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একই ধরনের ফসল বিদেশ থেকে আমদানির অনুমতি না দেয়। তবে বাজারে ঘাটতি থাকলে বা ঘাটতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় ফসল আমদানির অনুমোদন দিতে পারবে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন মৌসুমে কৃষিপণ্য নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানিয়েছেন।কৃষি সচিব বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা আছে, নিরাপদ ও পুষ্টিযুক্ত খাবার আমাদের উৎপাদন করতে হবে এবং মানুষকে খাওয়াতে হবে। কিন্তু নিরাপদ ও পুষ্টিযুক্ত খাবার উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা বিশেষ করে নিরাপদ খাবারের ক্ষেত্রে যে বড় বাধা দেখি তা হলো অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার।

‘কৃষক ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করতে এবং অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এর একটি ক্ষতিকারক দিক থেকেই যাচ্ছে ফসলে। ফলে আমরা এই কীটনাশকযুক্ত ফসল গ্রহণ করছি। এটা শাকসবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের জন্য প্রযোজ্য। সেটা কীভাবে কমানো যায় সে বিষয় নিয়ে আজকে একটা প্ল্যান তৈরি করার জন্য চিন্তা-ভাবনা করছি।

Share Button