উপকূল ফাউন্ডেশন এর পটুয়াখালী জেলা কমিটি গঠন

প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯
খবর বিজ্ঞপ্তি: স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উপকূল ফাউন্ডেশন সাগরকন্যা নামে খ্যাত পটুয়াখালী জেলার  কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা শাখার কমিটি গঠন করা হয়েছে।  ঢাকাতে এক বিশেষ সভায় উপকূল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম. আমীরুল হক পারভেজ চৌধুরী আজ মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯) বিকেলে জহিরুল ইসলামকে সভাপতি ও মোঃ আমিনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে মোট ১৩ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি ঘোষণা করেন। এছাড়াও কমিটিতে সহ সভাপতি হিসেবে মোঃ শামীম চৌধুরী (বাউফল), সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান (দশমিনা),  সাংগঠনিক সম্পাদক মুনাজ্জাল হুসাইন রাহাত (দশমিনা), মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইসরাত জাহান ইমা (কলাপাড়া), সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক লামিয়া জাহান (বাউফল), দপ্তর সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জুয়েল মাহমুদ (গলাচিপা), প্রচার সম্পাদক তাহসান রাকিব, সদস্য হিসেবে এক. তোফাজ্জল হোসাইন, দুই. মোঃ মনির হোসেন, তিন. মোঃ এনামুল হককে করা হয়।
ওই সময় উপকূল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম. আমীরুল হক পারভেজ চৌধুরী সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের ১৯টি জেলার ১৪৭টি উপজেলা প্রকৃতিগতভাবেই উপকূলে অবস্থিত। দেশের এক-দশমাংশ এলাকা উপকূল, যার বিস্তৃতি ৭১০ কিলোমিটার। এখানে প্রায় চার কোটি মানুষের বসবাস। উপকূলের জীবন ও জীবিকার সাথে প্রকৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
উপকূল ফাউন্ডেশন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে সমৃদ্ধ উপকূলে মুক্তির হাসি শ্লোগান নিয়ে কাজ করে আসছে। তিনি বলেন উপকূল অঞ্চলের বিদ্যমান সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অফুরন্ত, তা যথাযথ কাজে লাগানো উচিত। বাংলাদেশের ২৫ শতাংশ নাগরিক উপকূলে বসবাস করে যেমন, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতে জিডিপির কম-বেশী ২৫ শতাংশ অবদান উপকূলের। উপকূলের জীবন ও জীবিকার সাথে প্রকৃতির মেলবন্ধন উপকূলকে আরো ভাবিয়ে তোলে।
তিনি আরো বলেন পটুয়াখালীতে কুয়াকাটা অবস্থিত। প্রায় ১৮ কিলোমিটার বিস্তৃত কুয়াকাটা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রানী কমলার রাজধানী কালারাজা এবং রাবনাবাদ ও রাঙ্গাবালি চ্যানেল এ জেলায় অবস্থিত।  সি ফিস মিউজিয়াম, বুড়া গৌরাঙ্গ সামুদ্রিক চ্যানেল, কুয়াকাটার সীমা বৌদ্ধ মন্দির, বুদ্ধের ধ্যানমগ্ন মূর্তি, রাখাইন পল্লী, নারিকেল বীথি, ঝাউবন, ফাতরার চর (ম্যানগ্রোভ), গঙ্গামতির চর, রাসমেলা, লেম্বুর চর, গলাচিপা উপজেলার সোনার চর থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার স্থান যেমন পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা তৈরী করছে তেমনি সাগরকন্যাকে বাংলার মানচিত্রে অতুলনীয় করেছে ।
 এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন,  উপকূল ফাউন্ডেশনের জেলা কমিটির সমন্বয়কারী এডভোকেট আব্দুল বাসেত,  মোঃ জহিরুল ইসলাম, মোঃ শামীম চৌধুরী, আমিনুল, কামরুল ও রাহাতসহ আরও নেতৃবৃন্দ।
সভায় অন্যন্য বক্তারা বলেন, পটুয়াখালী জেলার উত্তরে বরিশাল জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পুর্বে ভোলা জেলা ও তেঁতুলিয়া নদী, এবং পশ্চিমে বরগুনা জেলা অবস্থিত।  বাউফলের  চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রাজধানী (কচুয়ার বাকলা ও পরবর্তীকালে রাজনগর), শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের পৈত্রিক নিবাস কাজী বাড়ি (বিলবিলাস), কমলা রানীর দীঘি (কালাইয়া), ঘসেটি বেগমের কুঠিবাড়ি (তেঁতুলিয়া নদীর তীরে) ও কানাই বলাই দিঘিসহ (কাছিপাড়া) চর চরাঞ্চালগুলোর নৈসর্গিক দৃশ্য হতে পারে সমৃদ্ধ পটুয়াখালীর আকর্ষণীয় স্থান।
এছাড়াও বক্তারা কুয়াকাটার শুঁটকি পল্লী, মৃৎ শিল্প, রাখাইন সম্প্রদায়ের বৈচিত্রময় জীবন পটুয়াখালীকে অনন্য করে রেখেছে বলে জানান।

Sharing is caring!