উপকার করতে এসে বাবা ও ছেলে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির দায়ের কোপে গুরুতর জখম

প্রকাশিত: ১০:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২০

তরিকুল ইসলাম রতন, বরগুনা প্রতিনিধি ॥

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় প্রতিবেশী এক ব্যক্তির দায়ের কোপে বাবা ও ছেলে মারাত্মক জখম হয়েছেন।

জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নে সোবাহান নামের এক ব্যক্তি তার নিজের মেয়েকে মারধর করছিলেন। পরে তাকে কোপানোর জন্য দা আনেন। সত্তার নামের এক প্রতিবেশী মেয়েটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সত্তারকে দা দিয়ে কোপ মেরে মারাত্মকভাবে জখম করেন। পরে সত্তারের ছেলে নান্না তার বাবাকে উদ্ধার করতে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় বাবা ও ছেলে দুই জনই আহত হন।

এরা হলেন মো. আবদুস সাত্তার ও তার ছেলে নান্না মিয়া।

পুলিশ খবর পেয়ে এঘটনায় জড়িত আবদুস সোবাহান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে এবং আহত সত্তার ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এসময়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার বেলা এক টার দিকে আবদুস সোবাহান কোন এক কারণে তার মেয়ে রিচাকে (১০) বেধড়ক মারধর করেন। এক পর্যায়ে ঘর থেকে তিনি দা এনে রিচাকে কোপানোর চেষ্টা করেন। পরে রিচাকে রক্ষা করতে সত্তার নামের এক প্রতিবেশী এগিয়ে আসেন। এতে সোবাহান ক্ষুব্ধ হয়ে সত্তারকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে নান্না তার বাবাকে উদ্ধার করতে এলে তাকেও সোবাহান এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন।

কাকচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন পল্টু বলেন, আসলে সোবাহান নামের এই লোকটি উগ্র প্রকৃতির। কোন এক তুচ্ছ কারণে বিভিন্ন সময়ে পরিবারের লোকজনকে প্রায়ই তিনি মারধর করেন।

তিনি আরও জানান, আবদুস সত্তার ও তার ছেলে তারা খুবই ভালো মানুষ। আমার জানা মতে তাদের সঙ্গে সোবাহানের কোনো বিরোধ নাই এবং কখনও ছিলোও না। উপকার করতে এসে তারা এখন জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।

এবিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাব উদ্দীন জানান, আমরা সোবাহানের ঘর তল্লাশি করেছি। এবং তার ঘর থেকে ছয়টি দা উদ্ধার করেছি। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি।

কোন অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

Sharing is caring!