উত্তাল বরিশাল : শিক্ষার্থীদের ৮ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ, পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট

প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১

শফিক মুন্সি ॥ সড়ক অবরোধ তুলে নিলেও দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে দুই পরিবহন শ্রমিকের গ্রেফতারের প্রতিবাদে প্রায় ৯ ঘন্টা ধর্মঘট করে বাস মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিকেরা। শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ আর পরিবহন মালিক – শ্রমিকদের ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ জনগণ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠক শেষে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টা থেকে দীর্ঘ সাড়ে ৮ ঘণ্টা পর বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়। সকাল সাড়ে নয়টায় সড়ক অবরোধ শুরু করেন তারা।

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের করা মামলায় শুক্রবার গভীর রাতে গ্রেফতারকৃত দুই পরিবহন শ্রমিককে নিঃশর্ত মুক্তি দেবার দাবিতে ধর্মঘট পালন করে বরিশাল পটুয়াখালী বাস – মিনিবাস মালিক সমিতি ও বরিশাল জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। শনিবার বেলা দশটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তাদের ধর্মঘট পালিত হয়। এতে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ২১ রুটে যান চলাচল বন্ধ থাকে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী অমিত হাসান রক্তিম জানান, প্রশাসনের সাথে বৈঠকে আমাদের তিন দফা দাবি পুনরায় তুলে ধরেছি। সেখানে দুটি বিষয়ে আশ্বস্ত হলেও একটি বিষয়ে কোন সুরাহা হয়নি। গত মঙ্গলবার রাতের হামলার ঘটনায় আমরা রুপাতলী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপনসহ কয়েকজনের নাম বলেছি। যাদের নাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলায় এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কিন্তু তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মামলায় হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও শিক্ষার্থীদের মালামাল ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো আনতে হবে। শিক্ষার্থীদের এ দাবির কথা বৈঠকে তুলে ধরা হলেও সে বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট সুরাহা দেয়নি কেউ। কিন্তু আমরা আশ্বাস নয়, চাই মূল হামলাকারীদের গ্রেফতার।

 

হামলায় আহত শিক্ষার্থী আলিম সালেহী বলেন, আমরা আজ (শনিবার) সড়ক অবরোধ তুলে (স্থগিত) নিলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চলবে। এছাড়া আগামীকাল (রোববার) ২১ শে ফেব্রুয়ারি হওয়ায় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি থাকছে না। তবে ২১ শে ফেব্রুয়ারির পরে সড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি থাকবে কিনা তা পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাহামুদুল হাসান তমাল জানান, প্রশাসন অনেকটাই গা ছাড়া ভাব দেখিয়েছে সেজন্য আমাদের মৌলিক অধিকারের জায়গা থেকে আন্দোলন করতে হচ্ছে। আর সড়ক অবরোধের কারণে জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি, তবে এ ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই।
উপাচার্য ড. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবি ছিল। সেসব দাবি পূরণে গৃহীত পদক্ষেপ গুলো দৃশ্যমান হওয়া শুরু হয়েছে। আমি আশা করবো শিক্ষার্থীরা ধৈর্য ধারণ করবে এবং তাদের দাবি পূরণে প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।

 

অন্যদিকে বরিশাল পটুয়াখালী বাস – মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের নির্দোষ দুই পরিবহন শ্রমিক ঘরে ফিরে না আসবে ততদিন পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করা হবে। তবে রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একদিন আন্দোলন স্থগিত থাকবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার মোকতার হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী তারা হামলাকারী দুজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যাপারেও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনরত পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সঙ্গেও আলোচনা করে দক্ষিণাঞ্চলে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে রুপাতলী বিআরটিসি বাস কাউন্টারে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে। এরপর রাতে রুপাতলী হাউজিং এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মেসে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। এতে ১১ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হলে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার প্রতিবাদ ও এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। ১০ ঘণ্টা পর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা দায়েরের পর সেই মামলা প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় শুক্রবার সড়ক অবরোধ ও মশাল মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টা থেকে পুনরায় ১৩ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন তারা।

 

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে দুজন পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- এমকে পরিবহনের সুপারভাইজার আবুল বাশার রনি (২৫) ও সাউথ বেঙ্গল পরিবহনের হেলপার মো. ফিরোজ (২৪)। তারা দু’জনই নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাউজিং এলাকার বাসিন্দা। গ্রেফতারকৃতদের নির্দোষ দাবি করে এবং মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট শুরু করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা।