উজিরপুরে জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

মহসিন মিঞা লিটন, উজিরপুর প্রতিনিধি ॥ উজিরপুরে জোয়ারের পানিতে পৌরসভাসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, লক্ষাধিক লোক পানিবন্দি। তলিয় গেছে ফসলী জমি, মাছের ঘের, পানের বরজ, বিনষ্ট হয়েছে পেঁপে, কলা বাগানসহ শাক সবজি ও রোপা আমনক্ষেত। উপজেলা কৃষি বিভাগ এক হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকা করছে। ব্যাপক ক্ষতির মুখে রয়েছেন মৎস্য চাষীরা।

পৌরসভার ২,৩,৪,৫ ৬,৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড সন্ধ্যা নদীর কোল ঘেঁষে থাকায় এবং নিম্নাঞ্চল হওয়ায় প্রবল জোয়ারের পানি ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র তলিয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন পানিবন্দি মানুষেরা। এই অঞ্চলে নেই কোন বেড়িবাঁধ ও স্লুইজগেট। কাউন্সিলর রিপন মোল্লা, কাইয়ুম হোসেন ও খাইরুল ইসলাম জানান, নদীর পাশ দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে অসহায় মানুষগুলো পানিবন্দি দশা থেকে মুক্তি পাবে। কিছু কিছু স্থানে স্লুইজগেট একান্ত প্রয়োজন।

পৌর মেয়র মোঃ গিয়াস উদ্দিন বেপারী জানান, পৌরসভা প্রায়ই নদী বেষ্টিত ও নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্রায় ১০ হাজার লোক পানিবন্দি। সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা চলছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ মজিদ সিকদার বাচ্চু জানান, পৌরসভাসহ উপজেলার বড়াকোঠা, ওটরা, হারতা, সাতলা, জল্লা, শিকারপুর সন্ধ্যা নদীর তীরে এবং অত্যন্ত নিম্নাঞ্চল। সামান্য জোয়ারের পানিতে এসব নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। এসব অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক লোক পানিবন্দি। পৌর এলাকায় বেড়িবাঁধের জন্য ওয়াপদায় বার বার যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন তালুকদার জানান, বর্তমানে জোয়ারের পানিতে এক হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম চলছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিমুল রানী পাল জানান, মাছের ঘের ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণতি বিশ্বাস জানান, পানিবন্দি কিছু কিছু এলাকা পরিদর্শন করেছি, বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও মাছের ঘের, পানের বরজ ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

Sharing is caring!