উজিরপুরে জুয়াড়ি রফিক গণধোলাইয়ের শিকার

প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২০

উজিরপুর প্রতিনিধি ॥ বরিশালের উজিরপুরে চিহ্নিত জুয়াড়ি রফিক বেপারী গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন। এলাকার সচেতন যুবকরা জুয়ার আসরে বাধা দিলে তাদের উপর হামলা চালায় জুয়াড়িরা। পরে স্থানীয় জনতার রোষানলে পড়ে জুয়াড়ি রফিক গণ ধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের হস্তিশুন্ড গ্রামের মৃত ওয়ারেছ বেপারীর ছেলে জুয়াড়ি রফিক হোসেন বেপারী (৪০) অজ্ঞাত ১০/১২ জন লোকজন নিয়ে ২ আগস্ট রবিবার রাত ৮টার দিকে হস্তিশুন্ড গ্রামের খোকন বয়াতির বাড়ির উত্তর পাশের্^ একটি পরিত্যক্ত বাগানে করোনার মধ্যেও জুয়ার আসর বসান। তাদের উৎপাতে অতিষ্ঠ পাশ্ববর্তী কয়েকটি পরিবারের নারী ও পুরুষরা স্থানীয় যুবকদের কাছে বিষয়টি জানান।

এরপর দক্ষিণ মোড়াকাঠী গ্রামের বাচ্চু মৃধার ছেলে অনার্স পড়ুয়া ছাত্র আবির হোসেন মৃধা (১৮), রশিদ সরদারের ছেলে মামুন সরদার (১৯), শাহ আলম সরদারের ছেলে এনামুল সরদার (১৭), জামাল বেপারীর ছেলে শাকির বেপারী (২০), মিজান বয়াতির ছেলে মিরাজ বয়াতি (২১) এলাকার শৃঙ্খলা ও যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ঘটনাস্থলে গিয়ে জুয়া খেলার প্রতিবাদ করেন এবং জুয়ার আসরের ছবি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে রফিক বেপারীসহ জুয়াড়িরা প্রতিবাদী ছাত্র যুবকদের উপর অতর্কিত হামলা চালান।

এ সময় তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে জুয়াড়ি রফিককে গণধোলাই দেন। বাকী জুয়াড়িরা পালিয়ে যান। এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে রফিক বেপারী মিথ্যা নাটক সাজিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এছাড়াও রফিকের বিরুদ্ধে রয়েছে নারী নির্যাতনসহ শত অভিযোগ।

স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, রফিক জমির দালালীর নাম করে বিভিন্ন লোকের জমি দখলের মিশনে ব্যস্ত। তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকায় জুয়ার আসর, জমি দখল চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি যেন এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক। এ ছাড়াও একাধিক নারী পুরুষ, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, রফিক বাহিনীর লোকজন প্রতিদিন অনধিকার পূর্বক বাড়ির উপর দিয়ে রাতে যাতায়াত করেন এবং বসতবাড়ির আশে পাশে বাগানে প্রতিদিন জুয়া ও মাদকের আসর বসান। ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না সাধারণ মানুষে। অভিযুক্ত রফিক বেপারী বিষয়টি এড়িয়ে যান। ঐ সন্ত্রাসী জুয়াড়িদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।

Sharing is caring!