ঈদ উদযাপনে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে তৎপর প্রশাসন, নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে থাকবে বিশেষ নজরদারি

প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

*বন্ধ থাকতে পারে নগরীর বিনোদন কেন্দ্র
*ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে
*নিষিদ্ধ হবে মাস্ক ছাড়া ঘোরাঘুরি

শফিক মুন্সি ॥

মাত্র কয়েকদিন পরই সারাবিশ্বের মতো বরিশালেও পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা (কোরবানি)। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এই বিশেষ দিনটি ত্যাগ এবং আনন্দের সংমিশ্রণ তৈরি করে। কিন্তু করোনাকালীন পরিস্থিতি মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই উৎসবের রঙ ফিকে করে দিয়েছে অনেকটাই। ঈদ উপলক্ষে বরিশালে যেন করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি না পায় সে ব্যাপারে সজাগ রয়েছে স্থানীয় পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। ঈদ পূর্ববর্তী, ঈদের দিন ও ঈদ পরবর্তী ভিন্ন ভিন্ন সময়কে ঘিরে তারা জনগণের জন্য নির্ধারু করেছে আলাদা আলাদা স্বাস্থ্য বিধি তদারকি পরিকল্পনা। এর মধ্যে কোরবানি উপলক্ষে চালু হওয়া পশুর হাট, ঈদের জামাত, ঈদ উপলক্ষে বিনোদন কেন্দ্রের ভিড়ভাট্টা এবং গণপরিবহন এসব জায়গায় মানুষ যেন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে সে ব্যাপারে তৎপর প্রশাসন।

ঈদের দিন এবং পরবর্তী ছুটির দিনগুলোতে জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে জেলা প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি থাকবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান জানান, রোজার ঈদে সকল বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকলেও এবারের ঈদে তেমনটা থাকবে না। কিছু বিনোদন কেন্দ্র উন্মুক্ত থাকতে পারে। তবে খোলা থাকা প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের মধ্যকার সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণের ব্যাপারে বিশেষ নজরদারি রাখবেন তারা।

বরিশালের জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে জেলার প্রতিটি হাটে তাদের টহল টিম সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ঈদের জামাতকে ঘিরে তাদের বিশেষ পরিকল্পনা আছে। এর মধ্যে ঈদের জামাত যেসব স্থানে অনুষ্ঠিত হবে সেসব জায়গায় স্বাস্থ্য বিধি অনুসরু হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে তাদের পুলিশি টহল টিম নজর রাখবে।

তিনি আরো জানান, ঈদ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে গণপরিবহন গুলোতেও তাদের টিম যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে নজর রাখবে। এছাড়া ঈদের ঘোরাঘুরিতে কেউ যেন মাস্ক ছাড়া বাইরে বের না হতে পারে সে বিষয়ে খেয়াল রাখবে জেলা পুলিশ।

অন্যদিকে,বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান জানান, বরিশাল নগরীর যেসব বিনোদন কেন্দ্র স্বল্প জায়গা নিয়ে স্থাপিত সেগুলো বন্ধ থাকবে। তবে বৃহৎ জায়গায় যেসকল বিনোদন কেন্দ্র আছে সেগুলো খোলা থাকতে পারে।

তিনি আরো জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গণপরিবহন এবং হাটগুলো যেন করোনা সংক্রমণের হটস্পট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছেন তারা। তবে করোনা সংক্রমণ রুখতে জনসাধারণের সচেতনতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন,‘ করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা এবং এটা কিভাবে বিস্তার লাভ করে সে ব্যাপারে বর্তমানে সকলেরই কম-বেশি ধারুা আছে। তাই নিজেদের সুরক্ষার জন্য যদি সবাই নিজেরাই আগ্রহী হন তবে পুলিশের কাজ সহজ হয়ে যায়।

Sharing is caring!