ইসলামী ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট কর্মকর্তাকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চাকরি ছেড়ে দিতে চাওয়ায় ইসলামী ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট শাখার এক কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে সাবেক এক শিবির নেতার বিরুদ্ধে। এমনকি একই সময় ওই কর্মকর্তা এবং তার বাবা-মা-ভাইকে জিম্মি করে ব্লাংক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর রাখেন ওই ব্যক্তি। আর এই ঘটনায় আইনী সহায়তা পেতে মামলা করায় এখন উল্টো মিথ্যা অভিযোগের মামলায় হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যরা। শনিবার সকাল ১১টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনই অভিযোগ করেছেন ইসলামী ব্যাংকের গৌরনদীর বাটাজোর এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন সোহেল। তিনি উজিরপুর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত বেসামরিক সদস্য মো. ইউনুস সিকদারের ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, দীর্ঘ দিন যাবত তিনি ইসলামী ব্যাংকের গৌরনদী বাটাজোর এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় চাকরি করে আসছিলেন। পরবর্তীতে বেশি বেতনে ভালো চাকরির সুযোগ আসায় তিনি ওই চাকরি ছেড়ে দিবেন বলে এজেন্ট মালিক গৌরনদী কলেজ ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি জিহাদ মোর্শেদ সজলকে অবগত করেন।

তখন এজেন্ট মালিক তাকে বেতন বাড়িয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে চাকরিতে বহাল রাখেন। কিন্তু আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে বেতন বাড়িয়ে না দেওয়ায় পুনরায় চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথার কথা বলেন। এ কারণে ২০২০ সালের ২৬ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ৯টার দিকে ফোন করে জরুরি মিটিংয়ের কথা বলে নাজমুল হোসেন সোহেলকে বাটাজোর এজেন্ট কার্যালয়ে নিয়ে যান। নাজমুল হোসেন সোহেল বলেন, ‘আমিও সরল বিশ্বাসে বাটাজোর এজেন্টে গিয়ে দেখতে পাই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এজেন্ট মালিক জিহাদ মোর্শেদ সজল এবং ব্যাংক স্টাফসহ বহিরাগত ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা লোহার রড, বাঁশের লাঠি, জিআই পাইপ, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প নিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে আছে।

আমি ব্যাংকে প্রবেশ করার সাথে সাথে তারা আমাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আমাকে ব্যাংকের মধ্যে অবস্থিত ছোট একটি রুমে নিয়ে দুই দফা মারধর করে জোর করে তাদের শিখিয়ে দেয়া মিথ্যা স্বীকারোক্তি ভিডিও রেকর্ড করে। পাশাপাশি আমার গলার একটি স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায় তারা। মোর্শেদ সজল এবং মেহেদী হাসান রেজার নির্দেশে আমার ওপর অকথ্য নির্যাতনে অংশ নেয় সজিব শরিফ (৪০), শাওন বালী (৪০), ব্যাংক স্টাফ মনিরুজ্জামান (৪০), ব্যাংক স্টাফ বাদশা কাজী (২৪), ইউপি সদস্য জাকির হোসেন, ব্যাংকের পিওন জহিরুলসহ কয়েকজন। তিনি আরও বলেন, ‘আনুমানিক বেলা সোয়া ১২টার দিকে এজেন্ট মালিক আমার মা এবং বাবাকে ফোন করে ডেকে আনে। তারা ওই এজেন্টে পৌঁছানো মাত্রই তাদের সাথে থাকা মোবাইল সেট নিয়ে যায়। পাশাপাশি আমাকে এবং আমার বাবা-মাকে জিম্মি করে ৯ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

তাদের দাবি পূরণে আমার ছোট ভাই শামীম রেজা অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে তার মাধ্যমে বাসা থেকে একশত টাকার তিনটি স্ট্যাম্প ও ছয়টি ব্লাঙ্ক চেক নিয়ে তাদের জোর করে স্বাক্ষর আদায় করে রাত ৯টার দিকে আমাদের ছেড়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে বের হয়ে আমরা থানায় জিডি করার উদ্দেশ্যে রওনা হই। পথিমধ্যে চারটি মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাত ৮ জন ব্যক্তি আমাদের পথরোধ করে থানা কিংবা হাসপাতালেও না যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এসময় তারা আমার মায়ের স্বর্ণের কানের দুল, গলার চেইন ছিনতাই করে। এই ঘটনায় আমরা ব্লাংক চেক, স্ট্যাম্প ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করি। মামলার সূত্র ধরে পুলিশ তদন্তকালে অভিযুক্ত শিবির নেতা জিহাদ মোর্শেদ সজল অভিযোগ স্বীকার করে এবং পরে স্ট্যাম্প ও চেক ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

কিন্তু পরবর্তীতে তা ফিরিয়ে না দিয়ে উল্টো বরিশাল আদালতে আমার বিরুদ্ধে ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি মামলা করে। এ মামলায় আমার মা, বাবা ও ভাইকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার পাশাপাশি আমাদের নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় আমরা ইসলামী ব্যাংক প্রধান শাখা এবং কর্পোরেট শাখায় অভিযোগ নিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি। তাই শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হন তারা।
এসময় নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিচারের পাশাপাশি ব্লাংক স্ট্যাম্প, চেক এবং মোবাইল সেট উদ্ধারে সহায়তা পেতে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি সহযোগিতা চেয়েছেন নাজমুল হোসেন সোহেল ও তার পরিবার।

তবে, সংবাদ সম্মেলনে করা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিহাদ মোর্শেদ সজল। তিনি বলেন, ‘নাজমুল হোসেন সোহেল আমার প্রতিষ্ঠান থেকে ৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এটা আদায় করতে চাপ সৃষ্টি করাতে তারা সংবাদ সম্মেলন ডেকে মিথ্যাচার করছে। তবে এই ঘটনার শুরুতে থানা পুলিশকে কেন অবহিত করা হলো না এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।