ইসরায়েল কি ইতিহাস ভুলে গেছে…..


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১০:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

তপন চক্রবর্তী ॥

১৯৪৮ সালে তৃতীয় বিশ্বের আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘের সনদ নিয়ে আরবের মাটিতে ইসরায়েল নামক দেশটির সৃষ্টি হলো আর তখন থেকেই শুরু হলো অশান্তি। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী আর স্বেচ্ছাসেবকরা প্রথমেই সব ফিলিস্তিনি আরবদের রাইফেলের মুখে দেশত্যাগ করার জন্য হুমকি দিল আর অসহায় ফিলিস্তিনিরা শত শত বছরের আবাসভূমি পরিত্যাগ করে সম্বলহীন অবস্থায় মরুভূমির মধ্য দিয়ে নতুন আবাসভূমি খোঁজার চেষ্টায় বেরিয়ে পড়তে বাধ্য হলো।

এ ভাবে প্রায় কুড়ি লক্ষ ফিলিস্তিনি আরব ভিটেমাটি থেকে উৎখাত হয়ে গেল আর তারপর মরুভূমির পথে অসহায় শিশু-মহিলা আর বৃদ্ধরা রাস্তায়ই মৃত্যুবরণ করল। কিন্তু কেন এমন হলো, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মুসলিম শাসন আমলে খলিফা ওমর সুলতান সালাউদ্দিন এবং অন্যান্য শাসকরা ইহুদি ব্যবসায়ীদের সকল সুযোগ এবং নিরাপত্তা দিয়েছিলেন অর্থনীতি এবং বাজারকে সচল রাখার জন্য। জ্ঞানী শাসকরা এ ধরনের পদক্ষেপই নিয়ে থাকেন। সেই সব উদার মনা এবং বুদ্ধিদীপ্ত শাসকদের কথা ইসলায়েল আজ কি ভাবে ভুলে গেছে।

ইসরায়েল বর্তমান বিশ্ব জনমত উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনি এলাকায় বসতি গড়ার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর একবার ফিলিস্তিনিদের আর আবাস থেকে বিতাড়ণের চেষ্টা যা বিশ্বের কেউ সমর্থন করেনি। প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি সৈন্য আর পুলিশ বাহিনীর সাথে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের সংঘাতের খবর আসছে, বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।

ইসরায়েল তার রাজধানী তেলআবিব থেকে স্থানান্তর করে পবিত্র নগরী জেরুজালেমে নিয়ে গেছে। ইহুদি ছাড়াও জেরুজালেম মুসলিম ও খ্রীস্টানদের পুণ্যভূমি। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় আর পশ্চিম জেরুজালেম আগেই তার দখলে ছিল। জেরুজালেম নগরীর বিশেষ মর্যাদা সর্বদাই ছিল কিন্তু ইসরায়েল তা উপেক্ষা করে জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে যদিও একমাত্র আমেরিকা ছাড়া আর কোন দেশ সেখানে দূতাবাস নিয়ে যায়নি। এই অবস্থায় ফিলিস্তিনিদের সংগঠন হামাস যদি শক্তিশালী হয়ে ওঠে তাহলে বলার কি আছে। হামাস যদি একদিন আনবিক শক্তির অধিকারী হয়ে ওঠে সেদিন কে ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেবে। একথা কিন্তু ইসরাইলের ভাবার সময় এখন।

হামাস সম্পর্কেও একটি কথা। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সারা পৃথিবী সহানুভূতিশীল এবং এই অবস্থাটা ধরে রাখা দরকার। অহিংসা আন্দোলন হামাসকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। মনে আছে কিছুদিন আগের কথা যখন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের উপর গুলি চালনার প্রতিবাদে বৃটিশ এমপি জেরুজালেম নিয়ে ইসরায়েলি সৈন্যদের তিরস্কার করেছিলেন। সময় আসবে যখন বিশ্ব জনমতের চাপে ইসরায়েলকে তার অবস্থান থেকে সরে আসতেই হবে।