ইলিশ শূন্য বরিশালের বাজার, মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান শুরু

প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

শফিক মুন্সি ::
নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ – মুজিব বর্ষে বাংলাদেশ এই স্লোগান সামনে রেখে বুধবার সকাল থেকে বরিশাল সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে শুরু হয়েছে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান। গত মঙ্গলবার রাত ১২ টার পর থেকে আগামী ৪ নভেম্বর রাত ১২ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে নদীতে ইলিশ শিকার, ইলিশের পরিবহন এবং বাজারে বিক্রি।

সরকারি এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে বুধবার থেকে কাজ শুরু করেছে বরিশালের বিভাগীয় ও ৬ টি জেলা প্রশাসন, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মৎস্য বিভাগ। আর এমন নিষেধাজ্ঞার কারণে বুধবার সকাল থেকে ইলিশ শূন্য হয়ে পড়েছে বরিশালের বাজারগুলো। তবে মা ইলিশ রক্ষা করতে পারলে আগামী বছর ‘রূপালী শষ্য’ ইলিশে সয়লাব হবে সারাদেশ এমন মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৪ অক্টোবর থেকে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে জেলেদের ইলিশ ধরা থেকে বিরত রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন। এই ২২ দিন বরিশাল বিভাগের সকল স্থানে ইলিশ ধরা, বিক্রয়, সংরক্ষণ, মজুদ, পরিবহন করা থেকে বিরত থাকতে সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়।

বুধবার সকালে বরিশাল জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর এর আয়োজনে নগরীর ডিসি ঘাটে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এস, এম, অজিয়র রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব আহমেদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আবু সাইদ, নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বিএনএস তিস্তা) আবদুল কাইয়ুম, কোস্ট গার্ড লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হাসানাত আরেফিন, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মুনিবুর রহমান, মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাসসহ আরও অনেক। এসময় দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বড় ইলিশ আহরণের উৎস কীর্তনখোলা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষে এক আলোচনায় অতিথিরা মা ইলিশ রক্ষায় করণীয় বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন।

অন্যদিকে ইলিশ বিক্রি বন্ধ থাকায় গতকাল সকাল থেকে বরিশাল নগরীর বড় ছোট মাছের বাজার ঘুরে ইলিশ শূন্যতার চিত্র দেখা গেছে। তবে মঙ্গলবার সারারাত বরিশাল জেলার সবচেয়ে বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নগরীর পোর্ট রোডে বসে ইলিশের মেলা। যেখানে করোনাভীতি উপেক্ষা করে উপচে পড়েছিলেন হাজার হাজার ক্রেতা। তবে সেখানে রাত আড়াইটা অবধি চড়া দামে ইলিশ বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। রাত তিনটার পর থেকে কমতে শুরু করে ইলিশের দাম। তবে বরগুনা, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালী জেলার বাজার গুলোতে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই কমতে শুরু করে ইলিশের বেচাকেনা।

বুধবার ভোর রাতে নগরীর পোর্ট রোড এলাকায় সরেজমিনে কথা হয় ইলিশ কিনতে আসা ইয়াছির আরাফাত মিশুর সঙ্গে। তিনি জানান,রাত দুইটা পর্যন্ত সেখানে ১ কেজি ওজন পরিমাণ সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রতিটি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। ১ কেজির কম কিন্তু আধা কেজির বেশি এমন সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রতিটি ৬৫০ থেকে ৭০০ এবং আধা কেজির কম সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকায়। তবে রাত তিনটার দিকে এই দাম কমতে শুরু করেছিলো বলেও জানান সারারাত বিভিন্ন সাইজের মোট ১৮ কেজি ইলিশ কেনা এই ক্রেতা।

বরিশালের আঞ্চলিক মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর যাবত মা ইলিশ রক্ষায় আমরা জোরালো ভূমিকা রাখতে পেরেছি। এ বছরও যদি সবাই মিলে এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায় তবে সামনে “রূপালী শস্য” ইলিশ তার পুরনো সমৃদ্ধি ফিরে পাবে’। তিনি আরও জানান, মা ইলিশ রক্ষা করতে পারায় গত বছরের (২০১৯) তুলনায় এবছর (২০২০) আট হাজার টনের বেশি ইলিশ আহরণ করা সম্ভব হয়েছে বরিশাল বিভাগে।

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ড. অমিতাভ সরকার বলেন,‘ সরকারি আদেশ অমান্য করে যদি কেউ নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরার চেষ্টা করে তাহলে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ইলিশ রক্ষায় সরকারী আদেশ পালনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মৎস্য কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক টহল দিবেন’।

তিনি আরো জানান, বুধবার থেকে বিভাগের প্রতিটি জেলায় মা ও প্রজননক্ষম ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা শুরু হয়েছে। এছাড়া ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত অভিযানের এই ২২ দিন জেলেরা যেন ঘরে থাকে এজন্য বিভাগের ২ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ জন জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে।

Sharing is caring!