ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে ক্রিকেটের আরেক ‘বিশ্বকাপ’

প্রকাশিত: ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৯

চট্টগ্রামের টগবগে কিশোর শরীফুল। পুরো নাম শরীফুল ইসলাম। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। চোখে কত স্বপ্ন। উচ্ছল, উদ্ভাসিত এ কিশোরের জীবনে হঠাৎই নেমে এল দুঃস্বপ্ন। স্কুল থেকে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় পা হারাল সে। মুহূর্তেই হাসি-আনন্দে ভরা জীবনটা হয়ে গেল এলোমেলো। ২০১০ সালের ঘটনা এটি। তবে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের (আইসিআরসি) সহায়তায় চট্টগ্রাম শহরের একটি শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নকল পা পেল সে। তাঁর নতুন করে স্বপ্ন দেখার শুরু সেখান থেকেই।

ক্রিকেটটা প্রচণ্ড ভালোবাসত শরীফুল। নকল পা পেয়ে সে যখন নতুন করে জীবন শুরু করল, তাঁর ইচ্ছে করল আগের মতো মাঠে গিয়ে ব্যাট-বলের সঙ্গে সখ্য গড়তে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াল এই সমাজ। নকল পা লাগিয়ে কি আর ক্রিকেট খেলা যায়? সুস্থ অবস্থায় যারা ছিল শরীফুলের খেলার সঙ্গী, তারাই বাঁধ সাধল তাঁর ক্রিকেট-আনন্দে। পাড়ার সবাই ক্রিকেট খেলছে আর শরীফুল মাঠের এক কোণে বসে নীরবে চোখের পানি ফেলছে—নিত্য দিনের দৃশ্যপট হয়ে উঠল এটি। কিন্তু শরীফুল বাধা মানবে কেন! সে নিজেই তৈরি করল নতুন এক ক্রিকেট দল। মানসিক শক্তিতে বলীয়ান এ কিশোরের দলটাও দিনে দিনে বড় হয়ে উঠতে লাগল।

নিজের ক্রিকেট-স্বপ্ন আজ পূর্ণতা পেয়েছে। শরীফুল এখন পুরোদস্তুর এক ক্রিকেটার। শারীরিক প্রতিবন্ধী অথচ প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া বিসিবি-শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের একজন সদস্য সে। এই কিশোরের মতোই গল্প বিসিবি-শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের বাকি খেলোয়াড়দেরও। কোনো না কোনো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার এই ছেলেগুলো নিজেদের জীবনের নতুন পথচলার সন্ধান পেয়েছে ক্রিকেট দিয়েই। মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মাহমুদউল্লাহ কিংবা মুশফিকদের মতোই শারীরিক প্রতিবন্ধী এই ক্রিকেটাররা বাংলাদেশের এক একজন প্রতিনিধি।

লাল-সবুজ পতাকাকে বিদেশের মাটিতে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার দায়িত্ব সাকিব-তামিমদের মতো এই শরীফুল, দ্রুপম পত্রনবিশ, অপূর্ব, তানভীর, ইমরানদের। আগামী ৫ আগস্ট থেকে ইংল্যান্ডের উস্টারশায়ারে অগ্নিপরীক্ষায় নামবে তারা। ভারত, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে নিয়ে ইংলিশ ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) আয়োজনে সেখানে শুরু হতে যাচ্ছে ন্যাটওয়েস্ট ফিজিক্যাল ডিজঅ্যাবিলিটি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট সিরিজ।

দারুণ মর্যাদাপূর্ণ এ টুর্নামেন্ট অবশ্য বাংলাদেশের শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট নয়। এর আগেও দেশে এবং বিদেশের মাটিতে এ দলটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। এবার বরং বাংলাদেশের লক্ষ্য নিজেদের অতীতের ভুলত্রুটি শুধরে ফাইনাল খেলা এবং শিরোপাটা জিতে নেওয়া।

দলটির অধিনায়কত্ব করছেন দ্রুপম পত্রনবিশ। তিনি নিজের আশাবাদের কথা জানিয়েছেন। দলের সাফল্যের ব্যাপারেও দারুণ আত্মবিশ্বাসী তিনি, ‘আমরা আগেও ইংল্যান্ড গিয়েছি। কয়েকটি ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি। মূলত অভিজ্ঞতার অভাবের কারণেই হেরেছিলাম। এবার অনুশীলন ভালো হয়েছে। দলও অনেক ভালো। আশা করছি এবার ভালো কিছুই হবে।’

‘ভালো কিছু’ বলতে আপাতত ফাইনালে খেলার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন দ্রুপম। তবে ফাইনালে কোনো দল উঠলে তাদের চোখ যে ট্রফিতে থাকে, সেটি না বললেও চলছে।

Sharing is caring!