ইঁদুরের গর্তের ধান কুড়িয়ে মঠবাড়িয়ার বিধবা মরিয়মের জীবিকা নির্বাহ

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২১

মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা ॥ মঠবাড়িয়ার হতদরিদ্র বিধবা মরিয়ম বেগম (৬৭) আমন ক্ষেতের ইঁদুরের মাটির গর্তের ধান কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আয়ের কোন পথ না থাকায় স্বামীর মৃত্যুর পরই গত ৭/৮ বছর ধরে এভাবেই তিনি সংসার চালিয়ে জীবন যুদ্ধে আজ জয়ী হয়েছেন। ছয় সন্তানের জননী মরিয়ম বেগম উপজেলার উত্তর মিঠাখালী গ্রামের (খোসালের বাড়ী) মৃত মিয়াজান ফকিরের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে স্বামী মিয়াজান ফকির বার্ধক্যের কারণে মারা যান। স্বামীর রেখে যাওয়া তিন কাঠা জমির ওপর বসত ঘর ও পুকুর। চার মেয়ে ও দুই ছেলে বিয়ে হওয়ার পর থেকে যার যার সংসার নিয়ে আলাদা হয়ে যান। বৃদ্ধ দিনমজুর স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর বসত ঘরে বসবাস করা মরিয়মের সংসারে আয় রোজগারের কেউ না থাকায় অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছিলেন।

 

এরমধ্যে দীর্ঘদিন ভিক্ষা করেও দুমুঠো ভাত জোগাতে হয়েছে তার। কিন্তু অপরের কাছে হাত পাতা ভিক্ষার জীবন তার কাছে ভাল লাগেনি। শুরু করেন কৃষকের পাকা আমন ধান কাটা ক্ষেতের এড়িয়ে যাওয়া ধান কুড়ানো। এর পাশাপাশি বেছে নেন কৃষকের পাকা ক্ষেতে ইঁদুরের গর্তে জমানো ধান কুড়ানো। ধান কাটার সময় ক্ষেতের মধ্যে ইঁদুরের মাটি দেখলেই মরিয়ম সেখানে হাজির হন ধারালো সাবল, সাজি ও প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে। পৌষ ও মাঘ মাসের পনেরো তারিখ (কৃষকের ধান কাটা) পর্যন্ত দেড় মাস মাঠের ধান কুড়ানোই পেশা হিসেবে বেছে নেন। গ্রাম্য প্রবাদ আছে- আষাঢ় শ্রাবণ মাসে ইঁদুর খাওয়ার জন্য কৃষকের ধান কেটে গর্তের মধ্যে লুকিয়ে রাখে। অথচ ওই সময় মাঠ পানি ভর্তি থাকে। মরিয়ম জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৯ থেকে ১০ মণ ধান পান। গড়ে কোনদিন ধান ৫ কেজি কিম্বা ৭/৮ কেজি ধান পান। আবার কোনদিন গর্ত না পাওয়ায় কুড়ানো অল্প কিছু ধান সাজিতে নিয়ে ফিরতে হয়। এই ধান সিদ্ধ করে চাল বানিয়ে সারা বছর চালিয়ে যান।

 

তিনি বলেন, অসহায় নারী বিধায় অনেক কৃষক ইঁদুরের গর্ত দেখলেই আমাকে খবর দেন। আবার অনেকে ক্ষেতের মধ্যে ঢুকতেও দেন না। সবার মানসিকতা তো এক না বলে এ ব্যাপারে তার কোন বক্তব্য নাই বলে জানান।

পরিবারের আর কোন সদস্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছেলে মেয়েরা আলাদা থাকলেও মাঝে মধ্যে বেড়াতে আসে। তিনি আরও জানান, সরকার থেকে পাওয়া বিধবা ভাতা ও স্থানীয় বিত্তবানদের আর্থিক সাহায্য দিয়ে ওষুধ ও সংসারের বাজারঘাট চলে। মরিয়ম বলেন, ভিক্ষা করার চেয়ে এতেই তিনি সন্তুষ্ট। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে আল্লাহ যেন শারীরিক সুস্থতা দান করেন এজন্য সকলের দোয়া কামনা করছেন।