আসামির হাত-পা ভাঙার পর বাদী পক্ষের গুলিতে আহত ২

প্রকাশিত: 5:05 PM, August 3, 2019

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় হত্যা মামলার আসামির হাত-পা ভেঙে দেওয়ার পর বাদী পক্ষের গুলিতে দুজন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জামাল হোসেন (৩৩) ও পুটু মিয়া (৪৫) নামের ওই ব্যক্তিদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার পর নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের চেচুয়াপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।ঘটনার পরপরই গ্রামবাসী ধাওয়া করে পিস্তলসহ আবদুস সালাম (২৮) নামের এক যুবককে আটক করে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুনে দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর চেচুয়াপাড়া গ্রামের হায়দার আলী খুন হন। ওই হত্যা মামলার আসামি ছিলেন একই গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন শাহীন। তিনি সম্প্রতি জামিনে জেল হাজত থেকে মুক্তি পান। গত বুধবার গভীর রাতে নিহত হায়দারের স্বজনরা শাহীনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। তাকে আটকে রেখে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই পা ও এক হাত ভেঙে দেওয়া হয়। ভোর রাতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার পর থেকে গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

স্থানীয়রা আরও জানান, শুক্রবার রাত আটটার পর চেচুয়াপাড়ার রাস্তায় অপরিচিত চার যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন তাদের পরিচয় জানতে চায়। তাদের সঙ্গে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারা গুলি ছোঁড়েন। এতে ওই গ্রামের বাসিন্দা জামাল ও পুটু পায়ে ও হাতে গুলিবিদ্ধ হন। গুলি ছোঁড়ার পর ওই যুবকেরা পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী ধাওয়া করে মটরসাইকেলসহ একজনকে আটক করে। এরপর তার মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে তাকে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে তাদের হেফাজতে নেয়। এরপর তার দেহ তল্লাশি করে পকেট থেকে একটি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। আটক সালাম হত্যা মামলার বাদী আবদুল গফুরের জামাই জানতে পেরে উত্তেজিত গ্রামবাসী গফুরের বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের নিবৃত করে।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবীর বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ দুইজনকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গ্রামবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Share Button