আসছে বছর আনন্দ হবে !

প্রকাশিত: ১০:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০

শফিক মুন্সি ::

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সন্ধ্যার মধ্যেই কম লোকসমাগমে বিসর্জন হয়েছে প্রতিমা। অন্যান্য রীতিনীতি পালনেও চোখে পড়ে নি স্বাভাবিক জনাকীর্ণতা। মন্ডপে মন্ডপে আলোকসজ্জা, দলবেঁধে ঘোরাঘুরি, মন্দিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মধ্যরাতে লোকেলোকারণ্য বিসর্জন বরিশালে এসবের কিছুই এবার পূজায় উপস্থিত ছিল না চোখে পড়ার মতো। স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যেই আটকে ছিল এবারের দুর্গা উৎসব। প্রতিবছর দশমীতে দুর্গা মায়ের বিদায়ে গলা ছেড়ে সবাই বলতো ‘আসছে বছর আবার হবে’। এবার সবাই প্রার্থনায় করোনা মুক্ত পৃথিবী কামনা করে মনে মনে বলেছেন,‘ এবছর না হলেও, আসছে বছর আনন্দ হবে’।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবার বরিশাল জেলায় মোট ৬১৭ টি মন্ডপে আয়োজন করা হয়েছে পূজা উদযাপনের। এর মধ্যে বরিশাল মহানগরে ৪২ টি এবং বরিশাল সদর উপজেলায় ২২ টি মন্ডপে পূজা উদযাপন করা হবে। অন্যান্য উপজেলা গুলোর মধ্যে আগৈলঝাড়ায় ১৫৭ টি,উজিরপুরে ১১০ টি, গৌরনদীতে ৮০ টি, বাকেরগঞ্জে ৭২ টি,বানারীপাড়ায় ৫৯ টি, মেহেন্দিগঞ্জে ও বাবুগঞ্জে ২৪ টি করে,মুলাদীতে ১২ টি ও হিজলায় ১৫ টি মন্ডপে করা হয়েছিল পূজা আয়োজনের। তবে প্রতিটি মন্ডপে অনুপস্থিত বিগত দিনের মতো আলোকসজ্জা। কমতি ছিল অন্যান্য বছরের মতো জমকালো আয়োজনেও। ব্যক্তিগত কেনাকাটা কিংবা পারিবারিক আয়োজনেও এবার সবাই অতীতের চেয়ে কম খরুচে। নতুন জামা, গুড় – নাড়ু কিংবা পায়েস সবকিছুতে হাজির জীবনঘাতি করোনা জীবাণুর সামাজিক প্রভাব।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড.সুব্রত কুমার দাশ। প্রতিবছর দুর্গা পূজার মৌসুমে নিজ জন্মভিটায় পরিবার নিয়ে উৎসব পালনে যান তিনি। কিন্তু মহামারির এবছর পারিবারিক সুরক্ষা ও সরকার নির্ধারিত অনুশাসনের কারণে নিজ কর্মস্থলেই থেকে গেছেন তিনি। এখানেই সহকর্মী ও পরিচিতজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন উৎসবের আনন্দ। স্বল্প পরিসরে বরিশালের মন্ডপগুলোতেও ঘুরেছেন ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে। আপনজনদের সাথে বছরে একবার সাক্ষাতের সুযোগ হাতছাড়া হলেও সকলের সুস্বাস্থ্য কামনায় প্রতিমার সামনে প্রার্থনায় হাত জোড় করেছেন বারবার।

এই শিক্ষক বলেন,‘চিরায়ত উদযাপনের মাত্রা এবার অনেকাংশে কমে গিয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনা করে। করোনার আর্থিক ক্ষতিও অনেক পরিবারে এবার পূজার রঙ ফিকে করে দিয়েছে। আমরা সকলে মিলে এবার শুধুমাত্র “মানবিক পূজা” উদযাপনের চেষ্টা করেছি। যাতে অল্প হলেও সবাই খানিকটা আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি। নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য বিধি মেনে মন্ডপে ঘোরাঘুরি করলেও আপনজনদের সুরক্ষা কামনা করে বারবার প্রার্থনায় হাত জোড় হয়েছে ’।

সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবেই এবার বরিশালে দুর্গা পূজা উদযাপিত হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে। তিনি বলেন,‘ প্রতিটি মন্ডপের জন্য নির্ধারণ করা স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করেই ভক্তরা এবার পূজা উদযাপন করেছেন। রাত ৯ টার পর মন্ডপগুলো বন্ধ ছিল, প্রতিটি মন্ডপে ভক্তদের জন্য মাস্ক পরিধান করে প্রবেশ এবং হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এছাড়া সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়’।

এছাড়া ধর্মীয় সকল রীতিনীতি পালনে যেন মানুষের ভিড় সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে নজরদারি রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
আর এসব বিধিনিষেধের বেড়াজালে পূজার চিরায়ত রঙ খানিকটা ফিকে হবার কথা স্বীকার করেছেন বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত দত্ত লিটু।

এই ধর্মীয় নেতা বলেন,‘ করোনা মহামারির প্রকোপে এবার পূজার আনন্দ অনেকাংশেই কম ছিল। উদযাপনের আতিশয্যে কেউ যেন আক্রান্ত না হন সেজন্য প্রতিটি মন্ডপে স্বাস্থ্য বিধি যথাযথ অনুসরণে সজাগ ছিলাম আমরা। তবে মা “দুর্গা”র কাছে আমরা সকলে প্রার্থনা করেছি যেন তিনি দ্রুত আমাদের করোনা মুক্ত পৃথিবী উপহার দেন। আশা করছি আসছে বছর বিগত দিনের মতো আনন্দ আর আয়োজনে আমরা উৎসব পালন করতে পারবো’।

Sharing is caring!