আমাদের জনতার পুলিশ হয়ে ওঠা অনেকাংশেই সম্ভব হয়েছে- শাহাবুদ্দিন খান

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দ্বিতীয় দফায় প্রাণঘাতী করোনাকে জয় করা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) আরও ৫২ জন সদস্য কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। গতকাল বুধবার যোগদানের পূর্বে তাদের সংবর্ধনা জানিয়েছেন বিএমপি কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান- বিপিএম (বার)। সকালে নগরীর পুলিশ লাইন্স ড্রিল সেটে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিমসহ ৫২ জনকে ফুল দিয়ে বরণ করেন তিনি।

এর আগে প্রধম ধাপে করোনা জয় করে ফেরা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩৪ জন সদস্য কাজে যোগদান করেন। এ নিয়ে করোনা থেকে পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়ে কাজে যোগদান করা পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮৬ জন।

এদিকে দ্বিতীয় ধাপে যোগদান এবং সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান।
এসময় করোনা যুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তাদের শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিএমপি কমিশনার বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের অসামান্য অবদানের জন্য আমরা যেমনি গর্ববোধ করি, তেমনি বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সময় বাংলাদেশ পুলিশ যে মানবিক অবদান রেখে চলেছে তার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ তথা এদেশের আপামর জনগণ গর্ববোধ করে।

তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষে বাংলাদেশ পুলিশের যে অঙ্গীকার ছিল, করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময়ে আমাদের সেই জনতার পুলিশ হয়ে ওঠা অনেকাংশেই সম্ভব হয়েছে। আমাদের এ ধারা অব্যাহত রেখে নিজের কাছে, নিজের পরিবারের কাছে, নিজের দেশের কাছে এমনকি বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

করোনা জয় করে আসা বিএমপি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএমপি কমিশনার বলেন, ‘তোমরা যারা করোনা যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছ তাদের কাছে আমার আহ্বান থাকবে করোনাকালীন সময়ে তোমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে সেটা সবার সাথে শেয়ার করবে। করোনা যুদ্ধে যারা বিজয়ী হয়েছে, যাদের দেহে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে, তারা তাদের রক্তের প্লাজমা দিয়ে অন্যকে বাঁচানোর জন্য সর্বদা মানব সেবায় এগিয়ে আসবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইইডিসিআর কর্তৃক ঘোষিত যে স্বাস্থ্য বিধিমালা বা গাইডলাইন রয়েছে সেগুলো মেনে চলার জন্য পুনরায় সকলকে সতর্ক করে শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘যারা আক্রান্ত হয়ে সুস্থতা লাভ করেছেন তাদের পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং আমাদের সাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

এদিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে করোনাকালীন বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন করোনা থেকে পুরোপুরি সুস্থতা লাভের পরে কাজে যোগদান করা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি- কোতয়ালী) মো. রাসেল এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহমান মুকুলসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এসময় তারা বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে মানসিকভাবে নিজের পরিবারের কথা ভেবে কিছুটা বিপর্যন্ত হয়ে পড়লেও পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের ডায়নামিক নেতৃত্ব ও তার পিতৃসুলভ ভালোবাসা, সঠিক দিক নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে আল্লাহ’র অশেষ রহমতে আমরা করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে পেরেছি।

তারা বলেন, ‘আমাদের অসুস্থতার সময়ে কমিশনার মহোদয় আমাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। তারা যাতে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে সেজন্য মনোবল চাঙ্গা রাখতে পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে কাউন্সিলিং করেছেন। এক কথায় একজন পিতা তার সন্তানকে সকল বিপদ-আপদে যেভাবে আগলে রাখেন, ঠিক সেভাবেই করোনা আক্রান্ত হওয়ার আগ থেকেই বিএমপি কমিশনার মহোদয় আমাদের সদস্যদের আগলে রেখেছেন।
এর আগে দ্বিতীয় দফায় পুলিশ কর্মকর্তা এবং সদস্যদের কাজে যোগদান পূর্বক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিক খান করোনা যুদ্ধে জয়ী অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার রাসেলসহ অন্যান্য করোনা জয়ী পুলিশ সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা এবং তাদের হাতে উপহার হিসেবে সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।

এসময় উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. মোক্তার হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. খাইরুল আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ফোর্স) মো. আব্বাস উদ্দিন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (স্টাফ অফিসার অ্যান্ড কাউনিয়া জোন) মো. আব্দুল হালিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ফোর্স অ্যান্ড ট্রাফিক) মো. মাসুদ রানা প্রমুখ।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয় থেকে জানাগেছে, ‘বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২১৫ জন সদস্য আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মোট সুস্থ হয়েছেন ৮৫ জন। যার মধ্যে প্রথম পর্যায় ৩৪ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে আরও ৫২ জন কাজে যোগদান এবং তাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।