আমরা সত্যিকারের জনগণের পুলিশ হতে চাই- ১৪ বছর পূর্তিতে বিএমপি কমিশনার

প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ::

দেখতে দেখতে ১৪টি বছর পার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল সিটি এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশে ৪টি থানা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলো নগর পুলিশের এই ইউনিটটি।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বর্ষপূর্তি উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। তবে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে এবার সংক্ষিপ্তভাবে শুধুমাত্র কেক কাটা, বেলুন ফেস্টুন এবং পায়রা ওড়ানোর মধ্যে দিয়ে ১৪ বছর পূর্তি পালন করে মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এ উপলক্ষে সোমবার সকালে নগরীর বান্দ রোডস্থ অফিসার্স মেসে নগর পুলিশ আয়োজিত কেক কাটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান- বিপিএম (বার)। তিনি সকল বিভাগের অফিসারদের সাথে নিয়ে বেলুন-ফেস্টুন এবং পায়রা উড়িয়ে ১৪ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

এসময় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘১৪টি বছর খুব একটা বেশি সময় নয়, আবার কমও নয়। আমরা শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পদার্পণ করেছি। কৈশোরের মধ্যে যে তেজ উদ্দীপ্ত থাকে, যে কর্মস্পৃহা থাকে, যে স্বপ্ন থাকে সেগুলো কিন্তু আমাদের মাঝে আছে।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ও বছরগুলোতে পুলিশের সেবার মান বৃদ্ধিকল্পে অনেকগুলো জনসম্পৃক্তমূলক কর্মসূূচি সারা বাংলাদেশের ন্যায় বরিশালেও আমরা নিয়েছি। বিশেষ করে, জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম সেটাকে নিবিড়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছি’।

 

 

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের নিয়ে একটা কমিউনিটি আছে, সমাজ আছে। সেখানে শান্তি শৃঙ্খলা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, আইন মান্যকারী এবং মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক হয়ে ওঠে সে জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে একটি কর্মসূচি চলমান আছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আইজিপি মহোদয় ড. বেনজীর আহমেদ-পিপিএম (বার) এর সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সর্বশেষ কমিউনিটি পুলিশিং এর পরিপূরক কর্মসূচি হিসেবে বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে বরিশালে শক্তিশালী করেছি। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মোট ৯৭টি বিটের কার্যক্রম আমরা চালু করেছি। যার মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ২টি এবং সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ৩টি করে বিট চালু করা হয়েছে।

বিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘ওপেন হাউজ ডেসহ বিভিন্ন কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের সভাগুলোতে পুলিশের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কল্পে এবং পুুলিশের অনিয়ম ব্যত্যয় ও অন্যান্য হয়রানিমূলক কাজকে চিরতরে বন্ধ করার জন্য সরাসরি জনগণের অভিযোগ-অনুযোগগুলো শুনি। সেখানে আমাদের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে আমাদের সেবা কার্যক্রমগুলো জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেন। এমনিভাবে নিবিড় তত্ত্বাবধায়ন, মনিটরিং, সুপারভিশনের মাধ্যমে আমাদের প্রতিটি পুলিশ সদস্য যাতে সঠিকভাবে, সঠিক নিয়মে নির্ভেজাল সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন সেই প্রচেষ্টা আমরা নিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের আজকের দিনের যে গ্রহণযোগ্যতা, সেই বিষয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমরাও শুনি। তার পরও আজকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বলবো আমরা এতেই সন্তুষ্ট নই। ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে আমাদের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমাদের প্রাণান্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা চাই সত্যিকারের জনগণের পুলিশ হতে। একটি সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠনে যে ধরনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপদ পরিবেশ দরকার সেটি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত নির্ভেজাল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের মধ্যে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কয়েকধাপ এগিয়ে সামনে থেকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে সেই ব্র্রত, কমিটমেন্ট আমাদের থাকবে।’

কেক কাটা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) আবু রায়হান মো. সালেহ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম, অপস্ অ্যান্ড প্রসিকিউশন) মো. জুলফিকার আলী হায়দার, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. মোকতার হোসেন- পিপিএম (সেবা), উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. খাইরুল আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. জাকির হোসেন মজুমদার-পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (নগর বিশেষ শাখা) মো. জাহাঙ্গীর মল্লিক, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. মনজুর রহমান- পিপিএম (বার), উপ-পুলিশ কমিশনার (সাপ্লাই অ্যান্ড লজিস্টিকস) খান মুহাম্মদ আবু নাসের প্রমুখ।

Sharing is caring!