আমতলী উপজেলা পরিষদ পুকুরে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মাছ চুরি!

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলী প্রতিনিধি ::

বরগুনার আমতলী উপজেলা পরিষদের পুকুরে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসাঃ তামান্না আফরোজ মনির নেতৃত্বে তার লোকজন মাছ চুরি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই ঘটনাস্থলে এসে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তার লোকজনকে আটক এবং জাল জব্দ করে। পরে ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তার লোকজনকে ছেড়ে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে।

জানাগেছে, আমতলী উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে পাঁচটি পুকুর রয়েছে। ওই পুকুর গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে মাছ চাষ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তামান্না আফরোজ মনি, তার ভাই মতিয়ার রহমানসহ ১০-১২ জন লোক মাছ শিকারের জাল নিয়ে উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে ওই লোকজন পুকুরে জাল ফেলে মাছ শিকার করছিলেন।

পরিষদের অভ্যন্তরে লোকজনের উপস্থিতি দেখে উপজেলা শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান মৃধা, কবির হাওলাদার ও শাহ আলম ঘটনাস্থলে যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তার ভাই মতিয়ার রহমানসহ ১০-১২ জন লোক পুকুরে মাছ শিকার করতে দেখেন। পরে তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তামান্না আফরোজ মনি ও তার সহযোগী ১০-১২ জনকে আটক করে।

মুহূর্তের মধ্যে এ ঘটনা আমতলীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে অর্ধ-শতাধিক লোক জড়ো হয়ে এ ঘটনার বিচার দাবী করেন। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম সরোয়ার ফোরকান, ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে ইউএনও আসাদুজ্জামান এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ^াস দিয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ তার সহযোগীদের ছেড়ে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী হাসান মৃধা, কবির হাওলাদার ও শাহ আলম বলেন, উপজেলা পরিষদের অভ্যান্তরে গভীর রাতে লোকজনের টের পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসাঃ তামান্না আফরোজ মনি ১০-১২ জন লোক নিয়ে উপজেলা পরিষদের পুকুরে মাছ শিকার করছিলেন। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম সরোয়ার ফোরকান, ইউএনও আসাদুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার উদ্দিন মৃধা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা আরো বলেন, ইউএনও সুষ্ঠু বিচারের আশ^াসে তাদের ওই রাতেই পুলিশ ছেড়ে দেয়।

আমতলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, উপজেলা পরিষদের পুকুরে গভীর রাতে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসাঃ তামান্না আফরোজ মনি ও তার ভাই মতিয়ার রহমানসহ ১০-১২ জন লোক জাল ফেলে মাছ শিকার করছিলেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তাদের আটক করে। ওই রাতেই আমি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ঘটনাস্থলে যাই। তিনি আরো বলেন, ইউএনও তাদের পুলিশের কাছ থেকে রেখে দিয়েছেন।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ভাই মোঃ মতিয়ার রহমান মাছ শিকারের কথা স্বীকার করে বলেন, উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত মতে মাছ শিকার করতে গিয়েছিলাম।
উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসাঃ তামান্না আফরোজ মনি মাছ চুরির ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ইউএনও আসাদুজ্জামান ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকানের সিদ্ধান্ত মতে রাত সাড়ে তিনটার দিকে জেলে নিয়ে মাছ শিকার করতে গিয়েছিলাম কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার উদ্দিন মৃধা পুলিশ নিয়ে এসেছেন।

এ বিষয়ে আমতলী থানার এসআই মোঃ দাদন মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ১০-১২ জন লোক আটক এবং মাছ ধরা জাল জব্দ করি। পরে ইউএনও স্যারের নির্দেশে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মান সম্মানের তাগিদে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তার লোকজনকে পুলিশের কাছ থেকে রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গভীর রাতে উপজেলা পরিষদের পুকুরে এভাবে মাছ শিকার করা দুঃখজনক।

আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম সরোয়ার ফোরকান চুরির ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, উপজেলা পরিষদের পুকুরে মাছ শিকারের কথা ইউএনও নিজেও জানেন। উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত মতে মাছ শিকার করতে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেলে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার উদ্দিন মৃধা পরিকল্পিতভাবে পুলিশ এনে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন।

Sharing is caring!